বিশেষ প্রতিবেদক: দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালস্থ সরকারি নিবন্ধন প্রাপ্ত ‘রাণীগঞ্জ পাঠাগারে’র তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ‘চেতনতিথি’। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) ত্রিশালের ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে তিনটি মূল পর্বে ভাগ করে নানা আড়ম্বরের সাথে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে রাণীগঞ্জ পাঠাগারের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে জানা যায়, গোটা আয়োজনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাণীগঞ্জ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা জনাব শাহ আহসান হাবীব বাবু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পদ অলঙ্কৃত করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সরকার, ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব জুয়েল আহমেদ, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব মোঃ ফজলে রাব্বি, ত্রিশালের সহকারী-কমিশনার-(ভূমি) জনাব মোঃ হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ কামাল হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর থানার সাবেক ওসি দেলোয়ার হোসেন।
এছাড়া, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মর্যাদায় উৎসাহদাতা হিসেবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব রাকিবুল হাসান রাকিব।
একই সঙ্গে, ‘চেতনতিথি’ অনুষ্ঠানের অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব অবিনাশ চন্দ্র দাম, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ ওবায়দুর রহমান, মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব মোঃ শামসুদ্দিন মন্ডল, একই কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম, পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল মালেক এবং মঠবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ কামরুজ্জামান আরিফ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন রাণীগঞ্জ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি রোবায়েত হোসাইন রুসাত এবং রাণীগঞ্জ পাঠাগারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিয়াম আবু রাফী। অনুষ্ঠানে পাঠাগারের পক্ষে বিশেষ বক্তব্য পেশ করেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি মোছাঃ রোকসানা আক্তার অর্পা।
রাণীগঞ্জ পাঠাগারের দেয়া প্রেসবার্তায় জানা গিয়েছে, ‘চেতনতিথি’ আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো ত্রিশাল উপজেলার নব-নির্বাচিত সাংসদ জনাব আলহাজ্ব এবিএম আনিছুজ্জামানের। একই সঙ্গে, বিশেষ অতিথি তালিকায় ছিলেন পার্শ্ববর্তী উপজেলা ফুলবাড়িয়ার নব-নির্বাচিত সাংসদ জনাব আব্দুল মালেক সরকার। কিন্তু, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে উভয়েই অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তথাপি, নিজেদের সমর্থন জ্ঞাপন করে বার্তা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি জনাব মোঃ ফজলে রাব্বির অনুরোধে প্রধান অতিথির পদ অলঙ্কৃত করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান।
প্রেস বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানের দিন সকাল নয়টায় রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনব্যাপী ‘চেতনতিথি’ আয়োজনের শুভ সূচনা করা হয়। এটি ছিলো ‘চেতনতিথি’ আয়োজনের প্রথম পর্ব তথা ‘প্রতিযোগিতা পর্ব’। এই পর্বের শেষাংশে আগত শিক্ষার্থী ও দর্শকদের সমন্বয়ে কুইজ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইয়ুথ জার্নালিস্টস ফোরামের সভাপতি ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল।
দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে সকাল সাড়ে দশটায় অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। শুরু হয় ‘চেতনতিথি’ আয়োজনের ‘আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব’। দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠানের সভাপতি শাহ আহসান হাবীব বাবুর সমাপনী বক্তব্য ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের আংশিক পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে এই পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বেলা আড়াইটা হতে শুরু হয় অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের, যা রাত অবধি চলে।

সফল আয়োজনের মঞ্চায়ন শেষে রাণীগঞ্জ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি রোবায়েত হোসাইন রুসাতের বক্তব্য নেয়া হয়। গোটা আয়োজনটি সফল করতে যারা আর্থিক, মানসিক ও কায়িক শ্রম দিয়েছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানের নামকরণ প্রসঙ্গে দৈনিক ইত্তেহাদকে তিনি বলেন, “চেতনতিথি’ -শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। সহজার্থে, মানুষের স্বীয় সত্তা ও আশেপাশের পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনুধাবন ক্ষমতার নামই ‘চেতনা’। অন্যদিকে, ‘তিথি’ শব্দটি প্রতিনিধিত্ব করে সঠিক সময়ের উদয় বুঝাতে। তাই, ‘চেতনতিথি’ -শব্দটি দ্বারা মূলত ‘মূল্যবোধ জাগ্রত হওয়ার সঠিক সময়’- এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। রাণীগঞ্জ পাঠাগারের বর্ষপূর্তি আয়োজনের শুভক্ষণে আমরা চাই, সামাজিক শুভবুদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার অনুশীলন হোক জনজীবনে। সে প্রেক্ষিতেই আমাদের নতুন বছরে পদার্পণ অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে, “চেতনতিথি’।”
টিবিসি ডেস্ক ।। 


















