০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের দায় কার?

লেখক

আব্দুল্লাহ আল নোমান: দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থীর এইচএসসি বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘটনা যখন নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজে তুমুল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করছে, তখন এই সংকটকে কেবল একপাক্ষিক বা শিক্ষা ব্যবস্থার সাধারণ বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন উঠছে, কেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে? তবে এর সমান্তরালে আরেকটি রূঢ় বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই, যারা এই দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষ করে বের হচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশই কেন বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের অযোগ্য প্রমাণ করছেন? কর্মসংস্থানের অভাব যেমন সত্য, তেমনি উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বিরাজমান চরম অদক্ষতা এবং যুগোপযোগী দক্ষতার ঘাটতি আজ এক অনস্বীকার্য জাতীয় ও সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

বাঙলাদেশের সনাতন শিক্ষাব্যবস্থা দশকের পর দশক ধরে শিক্ষার্থীদের একটি অবাস্তব ‘কর্পোরেট’ বা ‘সরকারি’ চাকুরিজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এসেছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত সমাজে ডিগ্রির যে মোহ তৈরি হয়েছিল, তার ফলে শিক্ষা আজ একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিভাবকরা আয়ের একটি বিশাল অংশ গৃহশিক্ষক, কোচিং, গাইড বই ও নোট শিটের পেছনে ব্যয় করছেন, কিন্তু এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে যে মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে, তা বৈশ্বিক বা স্থানীয় বাজারের চাহিদার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক বেকারত্বের হার আপাতদৃষ্টিতে সহনীয় মনে হলেও, টারশিয়ারি লেভেলের ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ থেকে ২৭.৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর অন্যতম কারণ ‘স্কিল মিসম্যাচ’ বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের দক্ষতার চরম অমিল।

শিক্ষাজীবনে শর্টকাট খোঁজার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও সৃজনশীলতা থেকে বহুদূরে ঠেলে দিয়েছে। নোট শিট, সাজেশন্স এবং শুধু ‘খাতা ভরানো’র মুখস্থ পদ্ধতির বেড়াজালে আটকে থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যুব কর্মসংস্থান ও ‘নিট’ সংক্রান্ত নির্দেশকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের যুবশক্তির একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল দক্ষতা ছাড়াই অলস সময় পার করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হওয়ার পরও সিংহভাগ তরুণ একটি প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল লেখা, শুদ্ধ ও সাবলীল যোগাযোগ কিংবা প্রাথমিক ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো জরুরি দক্ষতায় পিছিয়ে থাকছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর জরিপেও দেখা গেছে, সাধারণ ডিগ্রি কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে কোনো স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরি খুঁজে পান না। অথচ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, বিশেষায়িত পদের জন্য ‘যোগ্য ও দক্ষ’ প্রার্থীর অভাবে পদগুলো শূন্য রাখতে হয় অথবা বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আমদানির প্রয়োজন পড়ে। এটি স্পষ্ট করে, বাজারের মন্দার চেয়েও চাকরিপ্রার্থীদের চরম অদক্ষতা বেকারত্ব দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

শ্রম আইন ও বাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার বিনিময়ে মজুরি প্রদান করেন। আমাদের দেশে ডিগ্রিধারীদের বড় অংশই প্রায়োগিক বিদ্যা বর্জিত তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতের কর্মক্ষেত্রের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে তারা যখন প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তখন পুরো দায় রাষ্ট্র বা ব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

অবশ্যই রাষ্ট্র ও শিক্ষাকাঠামোর নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন, কিন্তু একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দায়বদ্ধতা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে গুণগত মান উন্নয়ন এবং আত্মউন্নয়নের প্রচেষ্টাকেও আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করানো দরকার। প্রযুক্তির এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে যেখানে ঘরে বসেই বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব, সেখানে সনাতন ডিগ্রির পেছনে জীবনের মূল্যবান ২৫টি বছর পার করেও বাজারমুখী কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন না করা এক প্রকার ব্যক্তিক ও সচেতন অলসতা।

সুতরাং, ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না দেওয়াকে শুধু নেতিবাচক হিসেবে না দেখে, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির মোহভঙ্গ এবং বাস্তবমুখী জীবিকার দিকে তরুণদের ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে। গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের মানুষ আজ বুঝতে পারছে যে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে অর্থহীন সার্টিফিকেট অর্জনের চেয়ে দ্রুত কোনো কর্মমুখী পেশা বা আত্ম-উদ্যোক্তা হওয়া অনেক বেশি ফলপ্রসূ।

সময় এসেছে এই নির্মম সত্যটি স্বীকার করার যে, শুধু সনাতন একটি সার্টিফিকেট কাউকে স্বাবলম্বী করতে পারে না। চাকরি না পাওয়ার জন্য শুধু ব্যবস্থার দিকে আঙুল না তুলে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের কতটা বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে তুলতে পেরেছে, সেই আত্মানুসন্ধানও জরুরি। অদক্ষ জনগোষ্ঠীর ডিগ্রির বোঝা বহন করার চেয়ে বাস্তবমুখী কর্মমুখী শিক্ষা এবং তরুণদের নিজস্ব উদ্যোগে দক্ষতা বৃদ্ধিই হতে পারে এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র কার্যকর উপায়।

লেখক: উন্নয়ন বিশ্লেষক ; স্নাতক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। 

ট্যাগ:

উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের দায় কার?

প্রকাশ: ০৩:০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান: দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থীর এইচএসসি বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘটনা যখন নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজে তুমুল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করছে, তখন এই সংকটকে কেবল একপাক্ষিক বা শিক্ষা ব্যবস্থার সাধারণ বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন উঠছে, কেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে? তবে এর সমান্তরালে আরেকটি রূঢ় বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই, যারা এই দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষ করে বের হচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশই কেন বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের অযোগ্য প্রমাণ করছেন? কর্মসংস্থানের অভাব যেমন সত্য, তেমনি উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বিরাজমান চরম অদক্ষতা এবং যুগোপযোগী দক্ষতার ঘাটতি আজ এক অনস্বীকার্য জাতীয় ও সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

বাঙলাদেশের সনাতন শিক্ষাব্যবস্থা দশকের পর দশক ধরে শিক্ষার্থীদের একটি অবাস্তব ‘কর্পোরেট’ বা ‘সরকারি’ চাকুরিজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এসেছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত সমাজে ডিগ্রির যে মোহ তৈরি হয়েছিল, তার ফলে শিক্ষা আজ একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিভাবকরা আয়ের একটি বিশাল অংশ গৃহশিক্ষক, কোচিং, গাইড বই ও নোট শিটের পেছনে ব্যয় করছেন, কিন্তু এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে যে মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে, তা বৈশ্বিক বা স্থানীয় বাজারের চাহিদার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক বেকারত্বের হার আপাতদৃষ্টিতে সহনীয় মনে হলেও, টারশিয়ারি লেভেলের ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ থেকে ২৭.৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর অন্যতম কারণ ‘স্কিল মিসম্যাচ’ বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের দক্ষতার চরম অমিল।

শিক্ষাজীবনে শর্টকাট খোঁজার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও সৃজনশীলতা থেকে বহুদূরে ঠেলে দিয়েছে। নোট শিট, সাজেশন্স এবং শুধু ‘খাতা ভরানো’র মুখস্থ পদ্ধতির বেড়াজালে আটকে থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যুব কর্মসংস্থান ও ‘নিট’ সংক্রান্ত নির্দেশকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের যুবশক্তির একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল দক্ষতা ছাড়াই অলস সময় পার করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হওয়ার পরও সিংহভাগ তরুণ একটি প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল লেখা, শুদ্ধ ও সাবলীল যোগাযোগ কিংবা প্রাথমিক ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো জরুরি দক্ষতায় পিছিয়ে থাকছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর জরিপেও দেখা গেছে, সাধারণ ডিগ্রি কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে কোনো স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরি খুঁজে পান না। অথচ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, বিশেষায়িত পদের জন্য ‘যোগ্য ও দক্ষ’ প্রার্থীর অভাবে পদগুলো শূন্য রাখতে হয় অথবা বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আমদানির প্রয়োজন পড়ে। এটি স্পষ্ট করে, বাজারের মন্দার চেয়েও চাকরিপ্রার্থীদের চরম অদক্ষতা বেকারত্ব দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

শ্রম আইন ও বাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার বিনিময়ে মজুরি প্রদান করেন। আমাদের দেশে ডিগ্রিধারীদের বড় অংশই প্রায়োগিক বিদ্যা বর্জিত তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতের কর্মক্ষেত্রের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে তারা যখন প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তখন পুরো দায় রাষ্ট্র বা ব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

অবশ্যই রাষ্ট্র ও শিক্ষাকাঠামোর নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন, কিন্তু একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দায়বদ্ধতা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে গুণগত মান উন্নয়ন এবং আত্মউন্নয়নের প্রচেষ্টাকেও আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করানো দরকার। প্রযুক্তির এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে যেখানে ঘরে বসেই বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব, সেখানে সনাতন ডিগ্রির পেছনে জীবনের মূল্যবান ২৫টি বছর পার করেও বাজারমুখী কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন না করা এক প্রকার ব্যক্তিক ও সচেতন অলসতা।

সুতরাং, ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না দেওয়াকে শুধু নেতিবাচক হিসেবে না দেখে, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির মোহভঙ্গ এবং বাস্তবমুখী জীবিকার দিকে তরুণদের ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে। গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের মানুষ আজ বুঝতে পারছে যে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে অর্থহীন সার্টিফিকেট অর্জনের চেয়ে দ্রুত কোনো কর্মমুখী পেশা বা আত্ম-উদ্যোক্তা হওয়া অনেক বেশি ফলপ্রসূ।

সময় এসেছে এই নির্মম সত্যটি স্বীকার করার যে, শুধু সনাতন একটি সার্টিফিকেট কাউকে স্বাবলম্বী করতে পারে না। চাকরি না পাওয়ার জন্য শুধু ব্যবস্থার দিকে আঙুল না তুলে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের কতটা বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে তুলতে পেরেছে, সেই আত্মানুসন্ধানও জরুরি। অদক্ষ জনগোষ্ঠীর ডিগ্রির বোঝা বহন করার চেয়ে বাস্তবমুখী কর্মমুখী শিক্ষা এবং তরুণদের নিজস্ব উদ্যোগে দক্ষতা বৃদ্ধিই হতে পারে এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র কার্যকর উপায়।

লেখক: উন্নয়ন বিশ্লেষক ; স্নাতক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।