ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল: ময়মনসিংহ শহরে হাঁটলে এক অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর দ্বন্দ্ব চোখে পড়ে। একদিকে শহর বড় হচ্ছে, বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে, জমির দাম হচ্ছে আকাশচুম্বী; অন্যদিকে একটু বৃষ্টি হলেই প্রধান সড়কগুলো হয়ে পড়ছে জলমগ্ন, যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে, ফুটপাত বেদখল হয়ে গেছে, খালগুলো সংকুচিত হচ্ছে এবং পার্কিংয়ের স্থান না রেখেই গড়ে উঠছে নতুন ইমারত। এই বাস্তবতায় শহর হঠাৎ কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ বা অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হলে এর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তার উত্তর আমাদের কারোরই জানা নেই। প্রশ্ন জাগে, আমরা কি সত্যিই একটি শহর নির্মাণ করছি, নাকি ধীরে ধীরে এমন একটি কংক্রিটের ফাঁদ তৈরি করছি, যেখান থেকে একদিন বের হওয়ার পথই থাকবে না?
ভুললে চলবে না, একটি শহর কেবল ইমারতের সমষ্টি নয়; রাস্তা, নদী, খাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গণপরিবহন, পার্কিং, উন্মুক্ত স্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান, অগ্নিনিরাপত্তা এবং নাগরিক সেবার সমন্বিত রূপই হলো একটি পূর্ণাঙ্গ শহর। একটি নতুন ভবনের অনুমোদন মানে পুরো শহরের রাস্তা, পানি, বর্জ্য ও যাতায়াতের ওপর নতুন এক বাড়তি দায় চাপানো। দুর্গের মতো এই শহরে দীর্ঘদিন যাবত আমরা বহুমাত্রিক ভবন নির্মাণ দেখলেও সিটি কর্পোরেশন বা অন্যান্য স্থানীয় সংস্থাগুলো শহরটিকে সামগ্রিকভাবে দেখার কোনো কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ময়মনসিংহের সাম্প্রতিক দৃষ্টিকটু নগরায়ণ সেই অপরিকল্পিত ও ব্যর্থ ধারারই এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, আকুয়া ও কেওয়াটখালীর মতো এলাকায় বহুতল ভবন বাড়লেও সেই অনুপাতে রাস্তা, ড্রেনেজ ও পার্কিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি। মাকড়জানি, কাটাখালী, জেলখানা ও আকুয়া খালের স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা আজ আমাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নিজ পরিসরে খণ্ডিত কিছু কাজ করার চেষ্টা করলেও শহরের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের মতো কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগত সক্ষমতা তাদের কখনোই ছিল না। ২০১৫ সালে বিভাগীয় এবং ২০১৮ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর প্রশাসনিক মর্যাদা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদী স্থানিক পরিকল্পনা বা ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কাঠামোটি সম্পূর্ণ অবহেলিত ও দুর্বল থেকে গেছে।
আর ঠিক এই জায়গাতেই ময়মনসিংহের সামনে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’, সংক্ষেপে, ‘মউক’। সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকে তাই শুধু আরেকটি সরকারি দপ্তর হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না। যেখানে সিটি কর্পোরেশন দীর্ঘকাল ধরে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে মউক এখন ময়মনসিংহের জন্য এক সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ রচনার রূপরেখা নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। সদ্য জন্ম নেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে শহরের পরিকল্পিত আবাসন বিন্যাস, সুনির্দিষ্ট ভূমি ব্যবহার নীতি, কাঙ্ক্ষিত জমি বরাদ্দ, নতুন উপশহর গড়ে তোলা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার এক সুদূরপ্রসারী কাঠামো দাঁড় করানোর পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে।
ময়মনসিংহের এই প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রার পথকে সুগম করার পেছনে রয়েছে সময়োপযোগী একটি সরকারি সিদ্ধান্ত। প্রথমে অধ্যাদেশ ও পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস হওয়ার মাধ্যমে ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেটভুক্ত একটি স্বীকৃত বাস্তবতা, ফলে এই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বা বৈধতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আইনি কাঠামোর সফল রূপায়ণের পাশাপাশি ময়মনসিংহের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মউকের প্রথম চেয়ারম্যান পদে বেছে নিয়েছেন জনসাধারণের প্রিয় মুখ ও প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোতাহার হোসেন তালুকদারকে, যাঁর পুরো জীবনটাই কেটেছে ময়মনসিংহের মাটি, মানুষ আর সংগ্রামের সাথে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নগর পরিকল্পনা কেবল নকশা আঁকার বিষয় নয়; এটি ভূমি, মানুষ, অর্থনীতি, পরিবেশ, অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের বিজ্ঞান।
স্পষ্টভাবে বলা যায়, জননেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্ব পালনের জন্য সর্বাংশে যোগ্য করে তুলেছে। ছাত্ররাজনীতির তপ্ত ও বন্ধুর পথ পেরিয়ে তিনি ধাপে ধাপে নিজেকে উন্নীত করেছেন এক লড়াকু নেতৃত্বে। আশির দশকে ছাত্রদলের পতাকাতলে দীক্ষা নিয়ে নাসিরাবাদ কলেজ, জেলা ছাত্রদল পেরিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর যুবদলের নেতৃত্ব এবং পর্যায়ক্রমে মূল দল বিএনপির উপজেলা ও দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপির কান্ডারি হিসেবে তিনি ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি যেভাবে জেলা পর্যায়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল রেখেছেন, তা তাঁর অনবদ্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই সাক্ষ্য বহন করে। স্থানীয় সরকার পরিচালনা তথা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুবাদে তিনি ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষের নাড়ির স্পন্দন ও মনস্তত্ত্ব খুব গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন। তাঁর এই সুদৃঢ় রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও জনসম্পৃক্ততাই মউককে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। মোতাহার হোসেন তালুকদারের সামনে তাই সুযোগটিও বড়, দায়িত্বটিও বড়।
আইনি দিক থেকে বিচার করলে মউকের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা ও এখতিয়ার। প্রতিষ্ঠানটি ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, সীমানার মধ্যে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণ, নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ, নিম্নবিত্তদের আবাসন পুনর্বাসন এবং জলাধার ও কৃষিজমি সংরক্ষণের পাশাপাশি রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও আধুনিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের সমন্বিত আঞ্চলিক পরিকল্পনা প্রণয়নে আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তবে এই আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে মউকের প্রথম ও প্রধান কাজ হওয়া উচিত ময়মনসিংহের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করা, অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ কঠোরভাবে বন্ধ করা এবং ভরাট হওয়া প্রাকৃতিক জলাধারগুলো অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করা। পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা ও জেলার চাপ সামলাতে জোনভিত্তিক আবাসন, শ্রমিকদের জন্য পরিকল্পিত উপশহর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরজুড়ে পরিবেশবান্ধব সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা গেলে ময়মনসিংহ একটি সত্যিকারের আধুনিক মডেল শহরে রূপ নিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের বয়স মাত্র অল্প কিছুদিন হলেও, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এর নেতৃত্ব যেভাবে মউকের কাজের গতি বৃদ্ধি করেছেন এবং নিজে মাঠে নেমে তদারকি শুরু করেছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। মউককে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপই ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হচ্ছে। শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র পার্কিং সংকট নিরসন, সরেজমিন জমি ও প্লট পরিদর্শন, ভবনের সেটব্যাক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বার্তা দেওয়া, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং অনুমোদনহীন যত্রতত্র ইমারত নির্মাণের বিরুদ্ধে মউক নেতৃত্বের সোচ্চার অবস্থান ময়মনসিংহের পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলার এক নতুন ভিত্তি তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নগরীর রিয়েল এস্টেট সেক্টরের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে জননেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার ইতোমধ্যে পরিষ্কার বলেছেন, আজ আমরা যে ভবন নির্মাণ করছি, সেগুলো হয়তো আগামী পঞ্চাশ কিংবা একশো বছর এই শহরের অংশ হয়ে থাকবে। আজ যে রাস্তা সংকুচিত করছি, সেই রাস্তায় হাঁটবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আজ যে জলাধার ভরাট করছি, তার মূল্যও একদিন তারাই পরিশোধ করবে। তাই প্রতিটি নির্মাণকাজ আসলে ভবিষ্যতের সঙ্গে করা একটি চুক্তি। সেই চুক্তি যদি কেবল তাৎক্ষণিক মুনাফার ভিত্তিতে হয়, তাহলে ক্ষতি হবে পুরো শহরের; আর যদি পরিকল্পনা, আইন ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে হয়, তাহলে লাভবান হবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে সেই অনুমোদন বাতিল করা হবে এবং নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে থাকবে কঠোর নজরদারি।
যদিও মউক সবেমাত্র কাজ গোছাতে শুরু করেছে, তবুও চেয়ারম্যানের এই বলিষ্ঠ ও জনমুখী পদক্ষেপগুলো অন্তত এই বার্তাই দিচ্ছে, ময়মনসিংহের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের যে বিশৃঙ্খলা ছিল, তা দূর করে একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দিতে তিনি কতটা আন্তরিক।
নগর পরিকল্পনার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে, মউকের ভৌগোলিক সীমা কেবল সিটি কর্পোরেশনের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আটকে না রেখে একে জেলাব্যাপী বিস্তৃত করা এখন সময়ের দাবি। রাজউকের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন সময়ের প্রয়োজনে তাদের মূল ঢাকা থেকে সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর বা নারায়াণগঞ্জ পর্যন্ত সীমানা বাড়িয়েছিল, তেমনি মউকের এখতিয়ারও ত্রিশাল-ভালুকা শিল্প করিডোর, জেলার উত্তরের উর্বর কৃষিজমি এবং ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বাস্তবতাকে সঙ্গে নিয়ে পুরো জেলাব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
সরকারের উচিত অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মউকের এই সীমানা সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা, যাতে আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পাঞ্চলগুলোর অনিয়ন্ত্রিত আবাসন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং সুপেয় পানির সংকট রোধ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট জোনভিত্তিক আবাসন এলাকা নির্ধারণ, পরিকল্পিত ভূমি বরাদ্দ, নতুন উপশহর প্রতিষ্ঠা এবং এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ চালুর মাধ্যমে মউক শহরটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা সাজাতে পারে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও জলাধারগুলোকে পুনরুদ্ধার করে প্রাকৃতিক নিকাশপথ হিসেবে ফিরিয়ে আনা এবং আমাদের প্রাণের নদী ব্রহ্মপুত্রকে ময়মনসিংহের পরিবেশগত মূল মেরুদণ্ড হিসেবে সংরক্ষণের যে মহাপরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহের চিত্র বদলে যাবে। পাশাপাশি, আশপাশের উপজেলা ও জেলা অঞ্চলের বর্ধিত চাপ সামলাতে শ্রমিক আবাসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের সমন্বিত আঞ্চলিক পরিকল্পনা প্রণয়নেও মউকের দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিশেষ, জননেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা মউককে ময়মনসিংহের মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি কেবল ফাইলের স্তূপে বসে নকশা অনুমোদন বা আটকে রাখার আমলাতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী নন; বরং ভূমি, মানুষ, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন এবং নেতৃত্ব, অর্থনীতি ও পরিবেশকে সুনির্দিষ্ট ফ্রেমে গেঁথে ময়মনসিংহকে একটি আধুনিক ও কার্যকর নগর-দর্শন উপহার দিতে চান। সরকারের দূরদর্শিতা এবং তাঁর এই গতিশীল নেতৃত্ব ময়মনসিংহকে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাতারাতি সব বদল করা সম্ভব না হলেও সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনাভিত্তিক পদচারণায় মউক হতে পারে ময়মনসিংহের উন্নয়নের প্রধান ভরসাস্থল। এই দূরদর্শী নেতৃত্বই আগামী দিনের ময়মনসিংহকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
লেখক: নগর পরিকল্পনাবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষক।
ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল 













