০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পনার দেশজ দর্শন: রূপকল্প ‘কবি নজরুল সিটি’

কবি নজরুল সিটির কাল্পনিক অবয়ব (এআই জেনারেটেড)

ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য ত্রিশালকে ‘কবি নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি ঘোষণা কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাইলফলক নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও মননের এক নবজাগরণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী ঘোষণা আমাদের সামনে এমন এক সুযোগ এনে দিয়েছে, যেখানে আমরা বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘হেরিটেজ থিম সিটি’ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারি।

একটি বিশ্বমানের থিম শহর হিসেবে ত্রিশালকে গড়ে তোলার এই যাত্রায় আমাদের সামনে দুটি দিগন্ত উন্মুক্ত। একদিকে ইউরোপীয় ও পশ্চিমা থিম-শহরগুলোর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, যা নগর ব্যবস্থাপনাকে করে তোলে অত্যন্ত কার্যকর; অন্যদিকে শান্তিনিকেতন বা কুমিল্লার বার্ড-এর মতো আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে পরীক্ষিত ‘নগর-গ্রাম’ মেলবন্ধনের সফল নজির, যা আমাদের সংস্কৃতির সাথে প্রগাঢ়ভাবে সম্পৃক্ত।

তাই আমাদের পরিকল্পনাটি কেবল প্রযুক্তিনির্ভর কিংবা কেবল ঐতিহ্যবাহী হলেই হবে না, বরং এই দুই ধারার এক দারুণ সমন্বয় হতে হবে। টেকসই ও প্রাণবন্ত নজরুল সিটি গড়ার স্বার্থে আমাদের দেশীয় মাটির বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার সাথে বৈশ্বিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠ নির্যাসটুকু মিলিয়ে একটি সমন্বিত মডেল তৈরির দিকেই এখন নীতিনির্ধারকদের মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।

বিদেশি মডেলের সাথে দেশীয় প্রেক্ষাপটের এই মেলবন্ধন কেন জরুরি, তা বুঝতে হলে আমাদের সামাজিক ও ভৌগোলিক মনস্তত্ত্বের দিকে তাকাতে হবে। স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন বা ডেনমার্কের ওডেন্সের মতো শহরগুলো তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে যেভাবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছে, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। কিন্তু একই সাথে শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের শিখিয়েছে, কীভাবে আধুনিকতার যান্ত্রিকতাকে এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে শিল্প-সাহিত্য ও জীবনবোধকে লালন করা যায়।

শান্তিনিকেতনের তপোবন-সদৃশ পরিবেশ কিংবা বার্ডের সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন মডেল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নগর মানেই কংক্রিটের জঙ্গল নয়; নগর মানে মানুষের সাথে প্রকৃতির নিবিড় সহাবস্থান। নীতিনির্ধারকদের কাছে আবেদন, ইউরোপীয় মডেলগুলোর কারিগরি উৎকর্ষ গ্রহণের পাশাপাশি দেশীয় এই ‘কেস স্টাডিগুলো’ নিয়ে গভীরে কাজ করা প্রয়োজন। কারণ, যে প্রযুক্তি বা পরিকল্পনা স্থানীয় মানুষের জীবনধারা, আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতির সাথে বিযুক্ত, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। আমরা এমন এক ‘হাইব্রিড নগরায়ন’ চাচ্ছি, যেখানে প্রযুক্তি হবে আধুনিক এবং প্রাণ হবে দেশীয়।

এক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ টিমগুলোকে অবশ্যই শান্তিনিকেতন ও বার্ডের মডেল সরেজমিনে মূল্যায়ন করতে হবে। শান্তিনিকেতনের স্থাপত্যিক স্নিগ্ধতা ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ আর বার্ডের বিকেন্দ্রীভূত গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামো, এই দুইয়ের সমন্বয়ে ত্রিশালের জন্য একটি ‘নগর-গ্রাম’ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা গেলে তা হবে প্রযুক্তির সাথে প্রকৃতির এক অভাবনীয় মেলবন্ধন।

‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’-এর প্রয়োগ এবং ‘ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর)’ ও ‘ল্যান্ড পুলিং’-এর মতো কৌশলী আইনি মডেলগুলো এখানে কার্যকর করা সম্ভব। অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ প্রকল্প বা সমগোত্রীয় মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে আমরা উচ্ছেদ ও সামাজিক ভোগান্তির যে করুণ চিত্র দেখেছি, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। ল্যান্ড পুলিং মডেলে স্থানীয় মালিকদের উচ্ছেদ না করে বরং তাদের জমির একটি অংশ উন্নয়নের কাজে লাগিয়ে অবশিষ্ট অংশকে বহুগুণ মূল্যবান করে তোলা সম্ভব, যা নজরুলের সাম্যবাদী দর্শনের এক আধুনিক বাস্তবায়ন।

প্রস্তাবিত নতুন এই শহরকে সফল করতে হলে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ‘ইনক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নজরুলের সাহিত্যিক দর্শন এবং আধুনিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পাশাপাশি চলবে। আমরা বিশ্বাস করি, শান্তিনিকেতন যেমন রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, ত্রিশালও তেমনি নজরুলের দ্রোহ ও প্রেমকে অন্তরে ধারণ করে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে ঐতিহ্যের এক অভাবনীয় সেতুবন্ধন তৈরি করবে। যথাযথ আইনি সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্ব এবং দেশজ ও বৈশ্বিক জ্ঞানের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সেই নজরুল সিটি, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হবে এক আস্থার ঠিকানা।

ত্রিশালের সন্তান হিসেবে আমি মনে করি, এই জনপদকে কেবল ইটের দালানে রূপান্তর না করে, একে নজরুলের দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি জীবন্ত নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব। শৈশবে দেখা ছিমছাম নগরী ত্রিশাল এবং ভবিষ্যতের নজরুল সিটির মাঝে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারাটি অটুট রাখাই আমার এই প্রস্তাবনার মূল উদ্দেশ্য।

পরিশেষে, নজরুল সিটি যেন কোনো আর্টিফিশিয়াল শহরের প্রতিচ্ছবি না হয়ে ওঠে। আমরা এমন এক নগরীর স্বপ্ন দেখি, যা কেবল অবকাঠামোগত সূচক নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও শৈল্পিক চর্চার এক ধ্রুবতারা হয়ে থাকবে। ইউরোপীয় প্রযুক্তি আমাদের দেখাবে কীভাবে শহরকে কার্যকর করা যায়, আর শান্তিনিকেতন বা বার্ড আমাদের শিখাবে কীভাবে শহরকে মানুষের জন্য বাঁচাতে হয়। এই দুইয়ের একীভূতকরণই হবে আমাদের মূল সাফল্য।

আমাদের স্বপ্নটি যেন কেবল দাপ্তরিক নথিপত্র বা কাগজের নকশায় বন্দি না থাকে; বরং নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতা এবং পরিকল্পনাবিদদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রিশাল যেন বিশ্বমঞ্চে টেকসই, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনার এক অনন্য ধ্রুবতারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, এই প্রত্যাশাই আমাদের সব কাজের প্রেরণা।

লেখক: পরিকল্পনাবিদ ; সদস্য সচিব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, ময়মনসিংহ জেলা কমিটি।

ট্যাগ:

পরিকল্পনার দেশজ দর্শন: রূপকল্প ‘কবি নজরুল সিটি’

প্রকাশ: ১০:৩২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য ত্রিশালকে ‘কবি নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি ঘোষণা কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাইলফলক নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও মননের এক নবজাগরণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী ঘোষণা আমাদের সামনে এমন এক সুযোগ এনে দিয়েছে, যেখানে আমরা বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘হেরিটেজ থিম সিটি’ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারি।

একটি বিশ্বমানের থিম শহর হিসেবে ত্রিশালকে গড়ে তোলার এই যাত্রায় আমাদের সামনে দুটি দিগন্ত উন্মুক্ত। একদিকে ইউরোপীয় ও পশ্চিমা থিম-শহরগুলোর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, যা নগর ব্যবস্থাপনাকে করে তোলে অত্যন্ত কার্যকর; অন্যদিকে শান্তিনিকেতন বা কুমিল্লার বার্ড-এর মতো আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে পরীক্ষিত ‘নগর-গ্রাম’ মেলবন্ধনের সফল নজির, যা আমাদের সংস্কৃতির সাথে প্রগাঢ়ভাবে সম্পৃক্ত।

তাই আমাদের পরিকল্পনাটি কেবল প্রযুক্তিনির্ভর কিংবা কেবল ঐতিহ্যবাহী হলেই হবে না, বরং এই দুই ধারার এক দারুণ সমন্বয় হতে হবে। টেকসই ও প্রাণবন্ত নজরুল সিটি গড়ার স্বার্থে আমাদের দেশীয় মাটির বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার সাথে বৈশ্বিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠ নির্যাসটুকু মিলিয়ে একটি সমন্বিত মডেল তৈরির দিকেই এখন নীতিনির্ধারকদের মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।

বিদেশি মডেলের সাথে দেশীয় প্রেক্ষাপটের এই মেলবন্ধন কেন জরুরি, তা বুঝতে হলে আমাদের সামাজিক ও ভৌগোলিক মনস্তত্ত্বের দিকে তাকাতে হবে। স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন বা ডেনমার্কের ওডেন্সের মতো শহরগুলো তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে যেভাবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছে, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। কিন্তু একই সাথে শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের শিখিয়েছে, কীভাবে আধুনিকতার যান্ত্রিকতাকে এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে শিল্প-সাহিত্য ও জীবনবোধকে লালন করা যায়।

শান্তিনিকেতনের তপোবন-সদৃশ পরিবেশ কিংবা বার্ডের সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন মডেল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নগর মানেই কংক্রিটের জঙ্গল নয়; নগর মানে মানুষের সাথে প্রকৃতির নিবিড় সহাবস্থান। নীতিনির্ধারকদের কাছে আবেদন, ইউরোপীয় মডেলগুলোর কারিগরি উৎকর্ষ গ্রহণের পাশাপাশি দেশীয় এই ‘কেস স্টাডিগুলো’ নিয়ে গভীরে কাজ করা প্রয়োজন। কারণ, যে প্রযুক্তি বা পরিকল্পনা স্থানীয় মানুষের জীবনধারা, আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতির সাথে বিযুক্ত, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। আমরা এমন এক ‘হাইব্রিড নগরায়ন’ চাচ্ছি, যেখানে প্রযুক্তি হবে আধুনিক এবং প্রাণ হবে দেশীয়।

এক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ টিমগুলোকে অবশ্যই শান্তিনিকেতন ও বার্ডের মডেল সরেজমিনে মূল্যায়ন করতে হবে। শান্তিনিকেতনের স্থাপত্যিক স্নিগ্ধতা ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ আর বার্ডের বিকেন্দ্রীভূত গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামো, এই দুইয়ের সমন্বয়ে ত্রিশালের জন্য একটি ‘নগর-গ্রাম’ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা গেলে তা হবে প্রযুক্তির সাথে প্রকৃতির এক অভাবনীয় মেলবন্ধন।

‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’-এর প্রয়োগ এবং ‘ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর)’ ও ‘ল্যান্ড পুলিং’-এর মতো কৌশলী আইনি মডেলগুলো এখানে কার্যকর করা সম্ভব। অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ প্রকল্প বা সমগোত্রীয় মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে আমরা উচ্ছেদ ও সামাজিক ভোগান্তির যে করুণ চিত্র দেখেছি, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। ল্যান্ড পুলিং মডেলে স্থানীয় মালিকদের উচ্ছেদ না করে বরং তাদের জমির একটি অংশ উন্নয়নের কাজে লাগিয়ে অবশিষ্ট অংশকে বহুগুণ মূল্যবান করে তোলা সম্ভব, যা নজরুলের সাম্যবাদী দর্শনের এক আধুনিক বাস্তবায়ন।

প্রস্তাবিত নতুন এই শহরকে সফল করতে হলে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ‘ইনক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নজরুলের সাহিত্যিক দর্শন এবং আধুনিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পাশাপাশি চলবে। আমরা বিশ্বাস করি, শান্তিনিকেতন যেমন রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, ত্রিশালও তেমনি নজরুলের দ্রোহ ও প্রেমকে অন্তরে ধারণ করে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে ঐতিহ্যের এক অভাবনীয় সেতুবন্ধন তৈরি করবে। যথাযথ আইনি সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্ব এবং দেশজ ও বৈশ্বিক জ্ঞানের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সেই নজরুল সিটি, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হবে এক আস্থার ঠিকানা।

ত্রিশালের সন্তান হিসেবে আমি মনে করি, এই জনপদকে কেবল ইটের দালানে রূপান্তর না করে, একে নজরুলের দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি জীবন্ত নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব। শৈশবে দেখা ছিমছাম নগরী ত্রিশাল এবং ভবিষ্যতের নজরুল সিটির মাঝে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারাটি অটুট রাখাই আমার এই প্রস্তাবনার মূল উদ্দেশ্য।

পরিশেষে, নজরুল সিটি যেন কোনো আর্টিফিশিয়াল শহরের প্রতিচ্ছবি না হয়ে ওঠে। আমরা এমন এক নগরীর স্বপ্ন দেখি, যা কেবল অবকাঠামোগত সূচক নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও শৈল্পিক চর্চার এক ধ্রুবতারা হয়ে থাকবে। ইউরোপীয় প্রযুক্তি আমাদের দেখাবে কীভাবে শহরকে কার্যকর করা যায়, আর শান্তিনিকেতন বা বার্ড আমাদের শিখাবে কীভাবে শহরকে মানুষের জন্য বাঁচাতে হয়। এই দুইয়ের একীভূতকরণই হবে আমাদের মূল সাফল্য।

আমাদের স্বপ্নটি যেন কেবল দাপ্তরিক নথিপত্র বা কাগজের নকশায় বন্দি না থাকে; বরং নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতা এবং পরিকল্পনাবিদদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রিশাল যেন বিশ্বমঞ্চে টেকসই, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনার এক অনন্য ধ্রুবতারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, এই প্রত্যাশাই আমাদের সব কাজের প্রেরণা।

লেখক: পরিকল্পনাবিদ ; সদস্য সচিব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, ময়মনসিংহ জেলা কমিটি।