জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ঝুঁকিপূর্ণ সায়েন্স ভবনসহ ইউটিলিটি ভবন, শহীদ সাজিদ ভবনের অধিকাংশ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ দুই মাসের বেশি সময় ধরে উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও সেগুলো পরিবর্তন বা পুনরায় রিফিল না করেই চলছে নিয়মিত কার্যক্রম। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভিসি ভবনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ থাকলেও সায়েন্স ভবন, ইউটিলিটি ভবন, কলা ভবন, শহীদ সাজিদ ভবন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও এসব যন্ত্র যথাস্থানে ঝুলছে এবং জরুরি প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের গায়ে থাকা ওয়ারেন্টি কার্ডে দেখা যায় রিফিলের তারিখ ২৮ মে ২০২৫ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ ২৮ মে ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। বর্তমান সময় ২১ জুলাই ২০২৬ হওয়ায় যন্ত্রটির মেয়াদ ইতোমধ্যে প্রায় দুই মাস অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ভেতরের রাসায়নিক উপাদান, পাউডার বা গ্যাসের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা হলে রাসায়নিক পাউডার জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে আগুন লাগার সময় যন্ত্রটি সক্রিয় করলেও ভেতরের উপাদান ঠিকভাবে বের না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সিলিন্ডারের অভ্যন্তরীণ চাপ কমে যেতে পারে। ফলে অগ্নিনির্বাপক উপাদান প্রয়োজনীয় চাপ ও গতিতে আগুনের উৎসে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সিল, ও-রিং, ভালভসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এসব কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র জরুরি মুহূর্তে পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ভবন আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে সায়েন্স ভবনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পুরান ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা সংকট। এমন পরিস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মতো প্রাথমিক নিরাপত্তা সরঞ্জামও যদি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে যেকোনো দুর্ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রূপক সাহা বলেন, “এমনিতেই আমাদের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। এর ওপর পুরান ঢাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ঝুঁকি রয়েছে। যেকোনো ভবনে খুব অল্প আগুন থেকেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হতে পারে। অথচ অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যে সামান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, সেটি নিয়েও প্রশাসনের অবহেলা লজ্জাজনক। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা পরীক্ষা, রিফিল বা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আছে কি না, তা যাচাই না করে ভবনে রেখে দেওয়া প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।
অগ্নিনিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ভবনে ঝুলিয়ে রাখলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। এগুলোর মেয়াদ, চাপ, সিল, ভালভ এবং অভ্যন্তরীণ উপাদান নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র দ্রুত রিফিল অথবা পরিবর্তন করা জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন ” হ্যা, বেশ কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ অফিসিয়ালি শেষ হয়ে গিয়েছে, আবার কিছু যন্ত্রের মেয়াদ এখনো আছে। আমরা এগুলো তালিকা করছি এবং প্রশাসনের কাছে এজন্য ফাইল ও জমা দিয়েছি, ফাইল পাশ হলে খুব দ্রুতই আমরা এগুলো রিফিল করে ফেলবো। এছাড়া যদিও এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বেশ কিছুদিন কার্যকর থাকে, তবে দ্রুতই আমরা এর জন্য পদক্ষেপ নিবো।”
মো সিয়াম আবু রাফি 












