০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জকসু নির্বাচনের আগে ত্রাণে সরব, এবার বন্যায় নীরব জবি ছাত্রসংগঠনগুলো

জবি প্রতিনিধিঃ গত বছরের ভয়াবহ বন্যার সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছিল ত্রাণ সংগ্রহের ব্যস্ততা। সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ত্রাণ সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ (ফান্ডরেইজিং), উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের নানা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে পরিচালিত হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে একাধিক ত্রাণ সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব কার্যক্রমের প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে চলতি বছরের বন্যা পরিস্থিতিতে সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত গত বছরের মতো দৃশ্যমান কোনো বড় পরিসরের ত্রাণ সংগ্রহ বা সমন্বিত মানবিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর দাবি, গত বছরের ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে তৎকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন সামনে থাকার বিষয়টি কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে নিজেদের জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক উপস্থিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর একই ধরনের মানবিক সংকটে সেই তৎপরতা আর চোখে পড়ছে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম শিক্ষার্থী বলেন, “গত বছর ক্যাম্পাসে প্রতিদিন ত্রাণ সংগ্রহ চলেছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন যেন প্রতিযোগিতা করেই কাজ করছিল। এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেই দৃশ্য আর দেখা যাচ্ছে না। এতে মনে হচ্ছে আগের কার্যক্রমের সঙ্গে নির্বাচনী বাস্তবতারও সম্পর্ক ছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “মানবিক কার্যক্রম যদি শুধুই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব।”

তবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, এবার বন্যা বা প্রাকৃতিক দূর্যোগের তীব্রতা অনেকটাই কম তবে তীব্র আকার ধারণ করলে নিশ্চয়ই ছাত্র সংগঠনগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদী। তবে গত ২০২৪ সালের বন্যা পরিস্থিতিতে সবার উদ্দেশ্য যে মানবিক ছিল এমনটা নয়,তেমন হলে এবছর চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলনামূলক খারাপের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের উদ্যোগ দেখা যেত। ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তা কার্যক্রম থাকলেও তা গত বছরের মতো সমন্বিত বা বড় পরিসরে নয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তাই নির্বাচন থাকুক বা না থাকুক, মানবিক সংকটে ছাত্রসংগঠনগুলোর সমন্বিত ও দৃশ্যমান ভূমিকা প্রত্যাশা করেন সবাই।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার মূখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন “হ্যা এ বিষয়ে আমাদের মাঝে কথা হয়েছে। রাতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের অনলাইন মিটিং আছে,সেখানেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। তবে আশাকরছি আগামীকাল থেকেই ক্যাম্পাস এ তহবিল সংগ্রহের জন্য আমরা কার্যক্রম শুরু করবো। ”

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক এবং জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তহবিল সংগ্রহের জন্য ব্যানারও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। জকসুর তহবিলে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা চাই আলাদা কোনো সাংগঠনিক বিভাজন তৈরি না করে জকসুর মাধ্যমেই সম্মিলিত উদ্যোগে একটি বড় তহবিল গঠন করে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে। পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উৎস থেকে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আমাদের সিনিয়র ভাইদের সহযোগিতায় তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত একটি টিম গঠন করে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।”

জকসু নির্বাচনের আগে ত্রাণে সরব, এবার বন্যায় নীরব জবি ছাত্রসংগঠনগুলো

প্রকাশ: ১০:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

জবি প্রতিনিধিঃ গত বছরের ভয়াবহ বন্যার সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছিল ত্রাণ সংগ্রহের ব্যস্ততা। সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ত্রাণ সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ (ফান্ডরেইজিং), উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের নানা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে পরিচালিত হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে একাধিক ত্রাণ সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব কার্যক্রমের প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে চলতি বছরের বন্যা পরিস্থিতিতে সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত গত বছরের মতো দৃশ্যমান কোনো বড় পরিসরের ত্রাণ সংগ্রহ বা সমন্বিত মানবিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর দাবি, গত বছরের ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে তৎকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন সামনে থাকার বিষয়টি কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে নিজেদের জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক উপস্থিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর একই ধরনের মানবিক সংকটে সেই তৎপরতা আর চোখে পড়ছে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম শিক্ষার্থী বলেন, “গত বছর ক্যাম্পাসে প্রতিদিন ত্রাণ সংগ্রহ চলেছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন যেন প্রতিযোগিতা করেই কাজ করছিল। এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেই দৃশ্য আর দেখা যাচ্ছে না। এতে মনে হচ্ছে আগের কার্যক্রমের সঙ্গে নির্বাচনী বাস্তবতারও সম্পর্ক ছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “মানবিক কার্যক্রম যদি শুধুই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব।”

তবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, এবার বন্যা বা প্রাকৃতিক দূর্যোগের তীব্রতা অনেকটাই কম তবে তীব্র আকার ধারণ করলে নিশ্চয়ই ছাত্র সংগঠনগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদী। তবে গত ২০২৪ সালের বন্যা পরিস্থিতিতে সবার উদ্দেশ্য যে মানবিক ছিল এমনটা নয়,তেমন হলে এবছর চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলনামূলক খারাপের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের উদ্যোগ দেখা যেত। ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তা কার্যক্রম থাকলেও তা গত বছরের মতো সমন্বিত বা বড় পরিসরে নয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তাই নির্বাচন থাকুক বা না থাকুক, মানবিক সংকটে ছাত্রসংগঠনগুলোর সমন্বিত ও দৃশ্যমান ভূমিকা প্রত্যাশা করেন সবাই।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার মূখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন “হ্যা এ বিষয়ে আমাদের মাঝে কথা হয়েছে। রাতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের অনলাইন মিটিং আছে,সেখানেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। তবে আশাকরছি আগামীকাল থেকেই ক্যাম্পাস এ তহবিল সংগ্রহের জন্য আমরা কার্যক্রম শুরু করবো। ”

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক এবং জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তহবিল সংগ্রহের জন্য ব্যানারও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। জকসুর তহবিলে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা চাই আলাদা কোনো সাংগঠনিক বিভাজন তৈরি না করে জকসুর মাধ্যমেই সম্মিলিত উদ্যোগে একটি বড় তহবিল গঠন করে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে। পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উৎস থেকে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আমাদের সিনিয়র ভাইদের সহযোগিতায় তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত একটি টিম গঠন করে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।”