জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর অন্যতম প্রধান একাডেমিক ভবন শহীদ সাজিদ ভবনের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি ঝরছে। এসিগুলোর পানি নির্দিষ্ট ড্রেনেজ লাইনে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তা ভবনের বাইরের দেয়াল বেয়ে নিচে পড়ছে। ফলে ভবনের বিভিন্ন অংশ সারাক্ষণ স্যাঁতসেঁতে থাকছে এবং দেয়ালজুড়ে জন্ম নিচ্ছে শেওলা। এতে ভবনের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরজমিনে দেখা যায় শহীদ সাজিদ ভবনের বিভিন্ন তলায় স্থাপিত এসিগুলোর আউটলেট পাইপ থেকে অবিরাম পানি ঝরছে। এসব পানি সরাসরি ভবনের দেয়ালে পড়ে নিচে নেমে আসছে। কোথাও দেয়ালের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে, আবার কোথাও সবুজ শেওলার আস্তরণ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে পানি পড়তে থাকায় ভবনের বাইরের অংশে স্থায়ী স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনের বিভিন্ন বিভাগে ব্যবহৃত প্রায় শতাধিক এসি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি ঝরে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ সামান্য পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি এসির ড্রেনেজ পাইপ একটি নির্দিষ্ট লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ভবনের বাইরে বা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে দেয়ালে পানি পড়া বন্ধ হবে এবং ভবনের সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ন থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসির পানি নিয়মিত দেয়ালে পড়তে থাকলে দেয়াল দীর্ঘ সময় ভেজা থাকে। এ ধরনের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে খুব সহজেই শেওলা ও ছত্রাক জন্মায়। এতে শুধু ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেয়ালের রং, প্লাস্টার ও স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফাহিমা তাজরীন বলেন, “শহীদ সাজিদ ভবনের দেয়ালে প্রতিনিয়ত এসির পানি পড়ে শেওলা জমছে। এটি শুধু দৃষ্টিকটু নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই সব এসির পানি নির্দিষ্ট পাইপের মাধ্যমে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভবনের সৌন্দর্য রক্ষা করুক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান সোহান বলেন,আমাদের ছোট্র একটা ক্যাম্পাস চাইলেই প্রতিটা কোণা পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন রাখা যায় কিন্তু আমাদের একমাত্র বড় ভবনের এই অবস্থা সত্যিই লজ্জাজনক। ভবনের সৌন্দর্য রক্ষা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিদিন এসির পানি দেয়ালে পড়ে শেওলার বিস্তার আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান ” বিবিএ ভবনের বিভাগের এসি গুলো মূলত বিভাগের দায়িত্বেই। তবে এসি গুলো থেকে যে নিয়মিত পানি পড়ে দেয়াল নস্ট হচ্ছে সে জন্য আমরা পাইপ দিয়ে পানিগুলো যাতে নিচে ফেলানো যায় সেজন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তাব রেখেছি।এটা পাশ হলেই খুব দ্রুত আমরা ব্যবস্থা নিবো ”
মো সিয়াম আবু রাফি 












