১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুনাহ মাফের চার আমল

মানুষ মাত্রই ভুলের শিকার। দৈনন্দিন জীবনে চলতে ফিরতে শতশত ভুলভ্রান্তির সম্মুখীন হয় তারা। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, শয়তান ও নফসের কুমন্ত্রণায় প্রকাশ পায় মহান প্রভুর অবাধ্যতাও। সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। তবুও সময়ে সময়ে যে পাপ কাজ মানুষ দ্বারা সংঘটিত হয়, তা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা যায় বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে। নিচে এমন কয়েকটি আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

এক. তওবা করা

তওবা ইমানদারের অন্যতম গুণ। আল্লাহতায়ালা এ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন পবিত্র কুরআনে। তিনি বলেন, ‘তারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোনো মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের ওপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং স্বীয় পাপের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫)। তওবা করলে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ বাচ্চার মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাপ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৫০)। উত্তম মানুষ সে, তওবা করে যে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ মাত্রই গুনাহগার, আর তাদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম।’ (জামে তিরমিজি : ২৪৯৯)।

দুই. নেক কাজ করা

নেক কাজের মাধ্যমে আগের গুনাহ মাফ হয়। এবং এর জায়গা নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নেক কাজ অবশ্যই পাপ মোচন করে। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য একটা উপদেশ।’ (সূরা হুদ : ১১৪)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কিন্তু যারা তওবা করে, ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপরাশি নেক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেবেন।’ (সূরা ফুরকান : ৭০)।

তিন. ওজু করা

অজুর মাধ্যমে বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেমন অর্জিত হয়, ওজু ব্যক্তিকে পাপের অপবিত্রতা থেকেও নিষ্কৃতি দেয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মুসলমান অথবা ইমানদার ওজুর সময় স্বীয় মুখমণ্ডল ধৌত করে, চোখ দ্বারা অর্জিত সব পাপ অজুর পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে, হাত দ্বারা অর্জিত সব পাপ ওজুর পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। যখন সে পা দুটো ধৌত করে, পায়ের দ্বারা অর্জিত সব পাপ ওজুর পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। এমনকি সে সব ধরনের পাপ থেকে মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম : ৪৬৫)।

চার. নামাজের জন্য মসজিদে গমন করা

নামাজ আল্লাহতায়ালার অতিপ্রিয় আমল। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে কথা বলে। নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে অগ্রসরমান প্রতিটা কদম তাই আল্লাহর পছন্দ। এজন্য তিনি প্রতিটা কদমের বিনিময়ে নেকি দান করেন। গুনাহ মাফ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি ভালোভাবে ওজু করে নামাজের উদ্দেশ্য মসজিদে গমন করে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রতিটা কদমের বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। একটি করে গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি : ৪৪৭)। আল্লাহতায়ালা সবাইকে পাপমুক্ত জীবন দান করুন। আমিন।

ট্যাগ:

গুনাহ মাফের চার আমল

প্রকাশ: ০৮:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪

মানুষ মাত্রই ভুলের শিকার। দৈনন্দিন জীবনে চলতে ফিরতে শতশত ভুলভ্রান্তির সম্মুখীন হয় তারা। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, শয়তান ও নফসের কুমন্ত্রণায় প্রকাশ পায় মহান প্রভুর অবাধ্যতাও। সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। তবুও সময়ে সময়ে যে পাপ কাজ মানুষ দ্বারা সংঘটিত হয়, তা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা যায় বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে। নিচে এমন কয়েকটি আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

এক. তওবা করা

তওবা ইমানদারের অন্যতম গুণ। আল্লাহতায়ালা এ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন পবিত্র কুরআনে। তিনি বলেন, ‘তারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোনো মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের ওপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং স্বীয় পাপের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫)। তওবা করলে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ বাচ্চার মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাপ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৫০)। উত্তম মানুষ সে, তওবা করে যে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ মাত্রই গুনাহগার, আর তাদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম।’ (জামে তিরমিজি : ২৪৯৯)।

দুই. নেক কাজ করা

নেক কাজের মাধ্যমে আগের গুনাহ মাফ হয়। এবং এর জায়গা নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নেক কাজ অবশ্যই পাপ মোচন করে। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য একটা উপদেশ।’ (সূরা হুদ : ১১৪)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কিন্তু যারা তওবা করে, ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপরাশি নেক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেবেন।’ (সূরা ফুরকান : ৭০)।

তিন. ওজু করা

অজুর মাধ্যমে বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেমন অর্জিত হয়, ওজু ব্যক্তিকে পাপের অপবিত্রতা থেকেও নিষ্কৃতি দেয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মুসলমান অথবা ইমানদার ওজুর সময় স্বীয় মুখমণ্ডল ধৌত করে, চোখ দ্বারা অর্জিত সব পাপ অজুর পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে, হাত দ্বারা অর্জিত সব পাপ ওজুর পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। যখন সে পা দুটো ধৌত করে, পায়ের দ্বারা অর্জিত সব পাপ ওজুর পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। এমনকি সে সব ধরনের পাপ থেকে মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম : ৪৬৫)।

চার. নামাজের জন্য মসজিদে গমন করা

নামাজ আল্লাহতায়ালার অতিপ্রিয় আমল। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে কথা বলে। নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে অগ্রসরমান প্রতিটা কদম তাই আল্লাহর পছন্দ। এজন্য তিনি প্রতিটা কদমের বিনিময়ে নেকি দান করেন। গুনাহ মাফ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি ভালোভাবে ওজু করে নামাজের উদ্দেশ্য মসজিদে গমন করে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রতিটা কদমের বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। একটি করে গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি : ৪৪৭)। আল্লাহতায়ালা সবাইকে পাপমুক্ত জীবন দান করুন। আমিন।