ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল: বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে এমন কিছু সংঘাত আছে, যেগুলোকে সময়ের ক্যালেন্ডার দিয়ে মাপা যায় না। বছর পেরোয়, সরকার বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়, কখনো কূটনীতির সম্ভাব্যতার দরজা খুলে যায়, আবার কখনো সেই দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় যুদ্ধের দামামা। সংঘাত থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক তেমনই এক দীর্ঘ ছায়া, যার শুরু কোনো একটি সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নয়, আবার যার পরিণতিও কোনো একটি যুদ্ধবিরতিতে নির্ধারিত হওয়ার নয়। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সম্পর্ক কখনো নিষেধাজ্ঞার ভাষায়, কখনো পারমাণবিক আলোচনার টেবিলে, কখনো প্রক্সি সংঘাতের ভেতর, আবার কখনো সরাসরি সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে নিজের নতুন রূপ খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি নতুন অধ্যায়ের নিচে যেন একই প্রশ্নটি থেকে গেছে, কেন এই দুই রাষ্ট্র বারবার মুখোমুখি দাঁড়ায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু ওয়াশিংটন কিংবা তেহরানের অগভীর ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে চলবে না; তাকাতে হবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কাঠামোগত গভীরতায়। একটি সংকটকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুধাবন করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণী স্তরগুলোর আশ্রয় নিতে হয়। কোনো সংঘাত কেবল নেতাদের মনোস্তত্ত্ব, বিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে না, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর চাপ প্রয়োগের মানসিকতা, জো বাইডেনের কূটনৈতিক কৌশলের চেষ্টা, কিংবা কাসেম সোলাইমানি ও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মতো ব্যক্তিত্বদের ঐতিহাসিক প্রভাব কাজ করে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রের ভেতরের রাজনীতি, শাসনব্যবস্থার ধরন, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক চেতনা, জনমতের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির সমীকরণের মতো অভ্যন্তরীণ বা রাষ্ট্রীয় স্তরটির বাস্তবতাও সমানভাবে কার্যকর থাকে। আবার এর বাইরেও গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক বাহিনী এবং বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ ও কার্যক্রমের মতো সাংগঠনিক স্তরটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত স্তরটি নিহিত রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা পদ্ধতিগত স্তরে; যেখানে বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ না থাকায় রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ নিরাপত্তার ভার নিজেদের কাঁধে বহন করতে বাধ্য হয় এবং নেতৃত্ব বদলালেও সংঘাতের মূল কাঠামোটি অপরিবর্তিত থাকে।
এই চার স্তরের বহুমুখী কাঠামোর আলোকেই তাদের মাঝখানে থাকা সেই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে, যে ব্যবস্থা রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা, ভয়, সন্দেহ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে। একজন নেতা হয়তো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি সিদ্ধান্ত নেন, একটি সরকার হয়তো একটি নির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করে, কোনো সামরিক সংগঠন হয়তো একটি নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করে; কিন্তু তাদের প্রত্যেকের সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে এমন কিছু কাঠামোগত বাস্তবতা, যেগুলো ব্যক্তি বদলেও সহজে বদলায় না। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংকটের সবচেয়ে গভীর পাঠ সম্ভবত এখানেই, এটি যতটা নেতাদের সিদ্ধান্তের ইতিহাস, তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থার একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট।
এই দীর্ঘ গল্পের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ১৯৫৩ সালে। ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ভূমিকা ইরানীদের রাজনৈতিক স্মৃতিতে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব সেই সম্পর্ককে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতায় নিয়ে যায়। এই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও আদর্শিক পুনরুত্থানের এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়। এরপর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ৪৪৪ দিন ধরে মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করে রাখার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে কূটনৈতিক বিরোধ থেকে গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক বৈরিতায় রূপ দেয়। শিয়া মতাদর্শ এবং স্বাধীন ইসলামী ব্যবস্থার যে বার্তা তেহরান ধারণ করে, ওয়াশিংটনের উদারনৈতিক বিশ্বব্যবস্থার কাছে তা বরাবরই একটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সেই সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ইরান কেবল নয়; আর ইরানের চোখে যুক্তরাষ্ট্রও কেবল আরেকটি পরাশক্তি নয়। উভয়ের রাষ্ট্রীয় স্মৃতিতে অন্য পক্ষের উপস্থিতি ধীরে ধীরে নিরাপত্তা-আশঙ্কার সঙ্গে মিশে যায়।
ইতিহাসের এই ভারের ওপর পরে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্য এবং ইসরায়েলের লাগাতার উসকানি ও কূটকৌশল। তেলআভিভ নিয়মিতভাবে ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দিতে সচেষ্ট থাকে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক কেবল ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্যই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের জন্যও হুমকি। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্ররোচনা ও বহুমুখী চাপ মার্কিন নীতিনির্ধারকদের হরহামেশাই আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে ইরানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী। ফলে ইরানের পক্ষে প্রচলিত সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা তৈরি করা বাস্তবসম্মত নয়। এর বদলে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, অসিমেট্রিক বা অসমমিতিক ক্ষমতা, আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব এবং প্রতিরোধ বা ডিটারেন্স হয়ে ওঠে ইরানের কৌশলগত নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের কাছে একই সক্ষমতাগুলো আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস এবং ভবিষ্যৎ হুমকির সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দেয়। এখানেই তৈরি হয় নিরাপত্তা দ্বিধা বা সিকিউরিটি ডিলার্মার সেই পরিচিত বৃত্ত, এক পক্ষ নিজের নিরাপত্তার জন্য যে সক্ষমতা তৈরি করে, অন্য পক্ষ সেটিকেই নিজের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে।
এই নিরাপত্তা-দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে ধীরে ধীরে উঠে আসে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় আইআরজিসি কেবল একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান নয়; এর কুদস ফোর্সের মাধ্যমে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতময় অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে আরও বিস্তৃত করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানকে মোকাবিলা করা কেবল একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক বা সামরিক প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা।
এই প্রেক্ষাপটে কাসেম সোলাইমানির নামটি আর শুধু একজন সামরিক কমান্ডারের নাম থাকে না; তা হয়ে ওঠে দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক সংঘাতের প্রতীকে পরিণত হওয়া এক অধ্যায়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা সরাসরি সামরিক ঝুঁকির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি ছিল ইরানের আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা; তেহরানের কাছে এটি ছিল রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যক্তিত্বকে হত্যার ঘটনা। এর পরপরই পাল্টা হামলা ও উত্তেজনা দুই দেশকে আরও বড় সংঘাতের কিনারায় নিয়ে যায়। সোলাইমানির মৃত্যুর ঘটনাটি তাই কেবল একটি ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড ছিল না; এটি দেখিয়ে দিয়েছিল, দুই পক্ষের নিরাপত্তা-দ্বন্দ্ব কতটা গভীরে পৌঁছেছে।
এরপর আসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন এবং সর্বোচ্চ চাপের নীতি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি বা জেসিপিওএ থেকে সরে গিয়ে ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৫ সালের জেসিপিওএ মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার একটি বহুপাক্ষিক কাঠামো তৈরি করেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো সেই চুক্তির বাইরে থেকে গিয়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার শুধু একটি চুক্তি থেকে সরে আসা ছিল না; এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তা-দ্বন্দ্বকে আরও কঠিন করে তোলে।
কিন্তু ট্রাম্পের পর যখন জো বাইডেন ক্ষমতায় এলেন, তখন ওয়াশিংটনের ইরাননীতির ভাষায় পরিবর্তন দেখা গেল। সর্বোচ্চ চাপের নীতির বদলে ফিরে এল কূটনীতি, আলোচনা এবং জেসিপিওএ পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা। রবার্ট ম্যালিকে ইরানের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করা হলো, আলোচনার দরজা খোলার চেষ্টা হলো। কিন্তু এই পরিবর্তিত কূটনৈতিক পদ্ধতিও শেষ পর্যন্ত মৌলিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। কারণ সমস্যাটি শুধু একটি প্রশাসনের নীতিগত পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাইডেন প্রশাসনও আইআরজিসিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত রাখার অবস্থান বজায় রেখেছিল। অর্থাৎ কূটনীতির ভাষা নরম হতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গির গভীরে থাকা উদ্বেগগুলো সহজে অদৃশ্য হয়নি।
এখানেই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের নেতৃত্ব বদলে নীতির ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তার কাঠামো অনেক সময় একই থাকে। ট্রাম্পের হাতে ছিল সর্বোচ্চ চাপের নীতি; বাইডেন বেছে নিয়েছিলেন কূটনীতি; কিন্তু উভয়ের সামনে একই ইরান, পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আইআরজিসি, আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সমষ্টি। অর্থাৎ নীতির পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু যে কৌশলগত পরিবেশ নীতিকে সীমাবদ্ধ করে, সেটি বদলায়নি।
এই কারণেই জেসিপিওএ-কে শুধু একটি পারমাণবিক চুক্তি হিসেবে দেখলে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যায়। এটি ছিল একটি সম্ভাবনার জানালা, যেখানে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের মাঝেও নজরদারি, যাচাইকরণ এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর সেই কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে উদ্বেগ আবার বাড়তে থাকে। ফলে পারমাণবিক প্রশ্নটি কেবল অস্ত্র বিস্তার রোধের বিষয় থাকেনি; এটি পরিণত হয় বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিযোগিতার আরেকটি স্তরে।
আর এই দীর্ঘ উত্তেজনার পর ২০২৬ সালে এসে সংঘাত তার সবচেয়ে পৈশাচিক ও ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় সামরিক অভিযান ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। এই সামরিক আগ্রাসনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক এবং বর্বর দিকটি প্রকাশিত হয় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সাধারণ নিরপরাধ শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্কুল লক্ষ্যবস্তু হয়। রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশ যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন যে বোমাবাজি শ্রেণিকক্ষগুলোকে রক্তে ভাসিয়ে দেয়, তা আধুনিক যুদ্ধনীতির চরম অমানবিক ও নৈতিক পতনকে উন্মোচন করে। সামান্য ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বলি হয়ে যখন শিশুরা প্রাণ হারায়, তখন এই সংঘাত কেবল পরাশক্তির ক্ষমতার লড়াই থাকে না, তা মানবতাবিরোধী এক অপরাধে রূপ নেয়। পাল্টা ইরানি হামলা, মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও আঞ্চলিক ঘাঁটিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের বিস্তার খুব দ্রুত এটিকে একটি দ্বিপক্ষীয় সংঘাতের সীমা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত করে। অর্থাৎ যে নিরাপত্তা-দ্বন্দ্ব এতদিন নিষেধাজ্ঞা, প্রক্সি যুদ্ধ, পারমাণবিক আলোচনা ও সীমিত সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল, তা এবার সরাসরি বৃহৎ সামরিক সংঘাতে রূপ নিল।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক অভিঘাতগুলোর একটি ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। কয়েক দশক ধরে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আদর্শিক কাঠামোর কেন্দ্রে থাকা সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু কোনো সাধারণ নেতৃত্বের রূপান্তর নয়। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির উত্থান ইরানের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বৈদেশিক নীতিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কিন্তু এখানেও ব্যক্তিকে কাঠামোর বিকল্প হিসেবে দেখার ঝুঁকি রয়েছে। একজন সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু অবশ্যই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা; কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা-দ্বিধা, আইআরজিসির অস্তিত্ব, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শেষ হয়ে যায় না।
বরং খামেনির মৃত্যুর পরের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের উল্টো প্রশ্ন করতে শেখায়, একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বদলে গেলেও তার কৌশলগত পরিবেশ কি বদলায়? যদি না বদলায়, তাহলে বৈদেশিক নীতির কতটা পরিবর্তন সম্ভব? এখানেই পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ আবারও ফিরে আসে। কারণ রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ব্যক্তি হতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা-সংকট অনেক সময় ব্যক্তির চেয়ে বড় হয়ে ওঠে।
এই সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বৈশ্বিক প্রতীক এখন হরমুজ প্রণালি। মানচিত্রে এটি একটি সরু জলপথ, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনীতির কাছে এটি জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। যুদ্ধের অভিঘাতে হরমুজের নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া দেখিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একটি সামরিক সংঘাত কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের অর্থনীতিকে স্পর্শ করতে পারে। একটি জাহাজের চলাচল বন্ধ হওয়া হয়তো ওয়াশিংটন বা তেহরানের কৌশলগত হিসাবের একটি ছোট অংশ; কিন্তু সেই জাহাজের পণ্য যদি জ্বালানি হয়, তার অভিঘাত পৌঁছাতে পারে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, কারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা বাজারে।
এখানেই হরমুজ সংকটের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর হাতে, কিন্তু যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য সবসময় তারা একা পরিশোধ করে না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়া মানে কেবল পেট্রলের দাম বাড়া নয়। এর সঙ্গে বাড়ে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন ব্যয়, খাদ্যের দাম, বিদ্যুতের খরচ এবং আমদানি ব্যয়। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পড়ে, মুদ্রার মান কমে যেতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং রাষ্ট্রের ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের একটি সামরিক সংকট খুব দ্রুত একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় রূপ নিতে পারে।
এই বাস্তবতায় হরমুজ আর কেবল ইরানের হাতে থাকা কোনো কৌশলগত দরকষাকষির হাতিয়ার নয়; এটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পারস্পরিক নির্ভরতার এক কঠিন স্মারক। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন শুধু তাদের সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো আমদানিনির্ভর অর্থনীতি, আফ্রিকার কোনো খাদ্যনিরাপত্তা-সংকটগ্রস্ত দেশ কিংবা জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরশীল কোনো উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, সবাই এই সংঘাতের পরোক্ষ অংশীদার হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যগুলোর একটি এখানেই: যে রাষ্ট্র যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় না, তাকেও কখনো কখনো সেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হয়।
এই জায়গায় এসে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংকটের নিরাপত্তা দ্বিধা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতাকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখে এবং সেই হুমকি মোকাবেলায় সামরিক উপস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিরোধ জোরদার করে। ইরান সেই চাপকে নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে এবং নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ইরানের এই সক্ষমতা আবার নতুন হুমকি তৈরি করে। ফলে এক পক্ষের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ অন্য পক্ষের কাছে আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি বলে মনে হয়। এভাবেই তৈরি হয় একটি আত্মঘাতী ও পুনরাবৃত্তিমূলক চক্র, যার ভেতরে প্রত্যেক পক্ষই নিজেকে রক্ষাকারী এবং অন্য পক্ষকে সম্ভাব্য আক্রমণকারী হিসেবে দেখতে পারে।
এই চক্রের ভেতরেই আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরান একদিকে নিজের প্রভাববলয় ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে নিজের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। ফলে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বিরোধ কখনোই পুরোপুরি দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির পারস্পরিক নিরাপত্তা-হিসাব একে একটি বহুপাক্ষিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে।
এই কারণেই কোনো একটি ঘটনা দিয়ে পুরো সংকটকে ব্যাখ্যা করা বিপজ্জনকভাবে সরলীকৃত হয়ে যায়। সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু সোলাইমানি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈরিতা বোঝা যায় না। খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিক, কিন্তু শুধু খামেনির নেতৃত্ব দিয়ে ইরানের বৈদেশিক আচরণ ব্যাখ্যা করা যায় না। ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপের নীতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু ট্রাম্প দিয়ে পুরো সংকটের ধারাবাহিকতা বোঝা যায় না। বাইডেনের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার ব্যর্থতা দিয়ে কেবল কূটনৈতিক ব্যর্থতার গল্প লেখা যায় না। একইভাবে আইআরজিসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আইআরজিসিকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলেও বৃহত্তর নিরাপত্তা-পরিবেশটি আড়ালে থেকে যায়।
কারণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কাঠামো, সবগুলোই একই বাস্তবতার ভিন্ন স্তর। একজন নেতা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিন্তু তিনি যে পরিবেশে সিদ্ধান্ত নেন, সেটি তিনি নিজের ইচ্ছামতো তৈরি করেন না। একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান অভিযান চালাতে পারে, কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান যে হুমকি উপলব্ধি থেকে কাজ করে, সেটিও বৃহত্তর নিরাপত্তা-পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত। একটি সরকার কূটনীতির পথ বেছে নিতে পারে, কিন্তু অপর পক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং সামরিক সক্ষমতার অসমতা সেই কূটনীতির সীমা নির্ধারণ করতে পারে।
এখানেই আন্তর্জাতিক বা পদ্ধতিগত স্তরের বিশেষ গুরুত্ব। এটি অন্য সব ব্যাখ্যাকে বাতিল করে না; বরং তাদের ওপর একটি বৃহত্তর কাঠামো চাপিয়ে দেয়। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য ব্যক্তিগত স্তর দরকার, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার জন্য অভ্যন্তরীণ স্তর প্রয়োজন, আইআরজিসির ভূমিকা বোঝার জন্য সাংগঠনিক স্তর অপরিহার্য। কিন্তু এতগুলো স্তরের ব্যাখ্যার পরও যে প্রশ্নটি থেকে যায়, কেন এত পরিবর্তনের পরও সংঘাত টিকে থাকে, তার উত্তর সবচেয়ে শক্তভাবে পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাঠামোতে।
সম্ভবত এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কোনো ব্যক্তি নয়, বরং অনিশ্চয়তা নিজেই। এক পক্ষ জানে না অন্য পক্ষের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কী। এক পক্ষ জানে না অন্য পক্ষ কতদূর যেতে প্রস্তুত। আর যখন কোনো কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রকে নিশ্চিত নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারে না, তখন প্রতিটি রাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। সেখান থেকেই তৈরি হয় অস্ত্র, প্রতিরোধ, জোট, সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টা ব্যবস্থার এক অন্তহীন প্রতিযোগিতা।
আজকের হরমুজ সংকট সেই প্রতিযোগিতারই বহুদূর ছড়িয়ে পড়া ছায়া। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে সংঘাতের সূত্রপাত, তার অভিঘাত যখন এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশ, আফ্রিকার খাদ্যনিরাপত্তা, দক্ষিণ এশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব কিংবা উন্নয়নশীল বিশ্বের ঋণব্যয়ের ওপর এসে পড়ে, তখন বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো যুদ্ধই শেষ পর্যন্ত কেবল যুদ্ধরত রাষ্ট্রগুলোর থাকে না। যুদ্ধের সামরিক মানচিত্র এক জায়গায় আঁকা হলেও তার অর্থনৈতিক মানচিত্র অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
তাই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংকটের দিকে তাকিয়ে শুধু এই প্রশ্ন করা যথেষ্ট নয়, কে আক্রমণ করল, কে পাল্টা আক্রমণ করল, কে বেশি শক্তিশালী, কিংবা কে আলোচনায় ফিরতে চাইল। আরও গভীর প্রশ্নটি হলো, কেন এমন একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিটি প্রচেষ্টাই কখনো কখনো অন্য পক্ষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দেয়? কেন একটি পারমাণবিক চুক্তি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু তার ভেতরের বৃহত্তর নিরাপত্তা-দ্বন্দ্বকে মুছে দিতে পারে না? কেন একজন নেতা চলে গেলে আরেকজন আসে, কিন্তু সংঘাতের ভাষা থেকে যায়?
সম্ভবত এখানেই এই দীর্ঘ সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের গল্প আসলে শুধু ট্রাম্পের গল্প নয়, শুধু খামেনির গল্প নয়, শুধু সোলাইমানি বা আইআরজিসির গল্প নয়। এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গল্প, যেখানে ক্ষমতা অসম, নিরাপত্তা অনিশ্চিত, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা তীব্র এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস গভীর। ১৯৫৩ থেকে ১৯৭৯, ২০১৫-এর পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮-এর সর্বোচ্চ চাপের নীতি, সোলাইমানির মৃত্যু থেকে বাইডেনের কূটনীতি, আবার ২০২৬-এর যুদ্ধ, খামেনির মৃত্যু এবং হরমুজের অচলাবস্থা, প্রতিটি অধ্যায় যেন একই পুরোনো সংকটকে নতুন পোশাকে ফিরিয়ে এনেছে।
আর তাই হয়তো হরমুজের সরু জলপথটির দিকে তাকালে আজ মধ্যপ্রাচ্যের চেয়েও বড় কিছু দেখা যায়। সেখানে দেখা যায় বিশ্ব রাজনীতির সেই কঠিন বাস্তবতা, যেখানে ইসরায়েলের উসকানি ও পরাশক্তির খেলায় একটি অঞ্চলের যুদ্ধ অন্য অঞ্চলের বাজারকে কাঁপিয়ে দেয়, পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার বদলে স্কুলের নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত ঝরে, একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-হিসাব অন্য রাষ্ট্রের ভয়কে বাড়িয়ে দেয়, আর কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ভার এসে পড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সংকটের মুখ বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়, কূটনীতির ভাষা বদলায়; কিন্তু যতদিন সেই আন্তর্জাতিক কাঠামোর মৌলিক দ্বন্দ্বগুলো অটুট থাকবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতও হয়তো শেষ হয়ে যাওয়ার চেয়ে নতুন কোনো রূপে ফিরে আসার সম্ভাবনাই বেশি বহন করবে। কারণ শেষ পর্যন্ত এই সংঘাত কোনো একজন মানুষের তৈরি নয়, এটি এমন এক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সন্তান, যে ব্যবস্থা এখনো তার নিরাপত্তার ভাষা খুঁজে পায়নি।
লেখক: পরিকল্পনাবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষক।
ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল 













