মানুষ সামাজিক জীব। মানব সমাজের অগ্রগতি বরাবরই সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো একটি সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রায় অসম্ভব। তাই প্রয়োজন হয় সম্মিলিত প্রচেষ্টার, যেখানে একদল মানুষ স্বীয় সামর্থ্য, দক্ষতা এবং উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে সার্বিক কল্যাণে কাজ করে। এই চিরন্তন সত্যের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে সামাজিক সংগঠন। আমাদের চারপাশে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের বাইরে, যত সেবামূলক কার্যক্রম, তার বড় একটি অংশ সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে। মানবিক মূল্যবোধের বিস্তার, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা—মোটাদাগে এগুলোই একটি সামাজিক সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যপ্তি এটুকুর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক সেবার পরিধি সীমিত এবং বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সামাজিক সংগঠনগুলো সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমাদের সমাজে অনেক যুগান্তকারী পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, তরুণদের জীবনে সামাজিক সংগঠন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। নৈতিক গুণ সমৃদ্ধ, দক্ষ ও সচেতন মানবিক নেতৃত্ব তৈরীতে সংগঠনগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আজকের লেখাটি তেমনই এক তরুণ উদ্যোগ নিয়ে, যার নাম, সঞ্জীবন যুব সংস্থা।
সঞ্জীবন যুব সংস্থার প্রতিষ্ঠাকাল ২০১৭ সালের ১০ মার্চ। অর্থাৎ পথচলার নবম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এর আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পেয়েছে সংগঠনটি। ‘স্ট্যান্ডস ফর দ্যা সোসাইটি’ -স্লোগানকে ধারণ করে ময়মনসিংহ শহরে মাত্র ৩১ জন সঙ্গী নিয়ে যে যাত্রা সঞ্জীবন শুরু করেছিলো, পথচলার বিগত আট বছরে তা ছড়িয়েছে দেশের অন্তত ৩৩ টি জেলা, ৫৯ টি উপজেলা এবং ১১ টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, যার প্রতিটিতেই রয়েছে সচল কার্যকরী কমিটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পা রেখেছে সঞ্জীবন যুব সংস্থা। শাখা কমিটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে মালেশিয়া এবং সুদূর চীন দেশে। অত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকার সাভারে।
সংগঠনের নিবন্ধিত সদস্য ও ভলান্টিয়ার সংখ্যা এখন প্রায় ছয় শতাধিক। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির আকার ৮১ সদস্য বিশিষ্ট, যার সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা ও বর্তমানে ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত পরিকল্পনাবিদ ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা জনাব নূর হোসেন হৃদয়। প্রতি দু বছর অন্তর নির্বাচনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠিত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেইজের নাম https://www.facebook.com/sonjibon.org, ওয়েবসাইট https://www.sonjibon.org.bd/ এবং যোগাযোগ মেইল sonjibon.org.official@gmail.com।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সঞ্জীবনের রয়েছে আলাদা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প, প্রাণীসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং শিক্ষা সেবা প্রকল্প। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের প্রধান সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যজুয়েশন সম্পন্ন করা কৃষিবিদ জনাব আশিকুর রহমান তুহিন। স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প ও মেডিকেল টীমের ব্যবস্থাপক ও প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ডাক্তার দৌলত আহমেদ শাকিল। শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা ও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য নুসরাত রহমান মীম এবং প্রাণীসম্পদ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডাক্তার জনাব মিজানুর রহমান। এসবের বাইরে সঞ্জীবনের দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা ডিভিশনের প্রধান বারডেম হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডাক্তার অশির মনসুর তালুকদার এবং আইসিটি বিভাগের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জনাব এসএমকে ইশতিয়াক। সংগঠনটির মুখপাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় নিয়োজিত কৃষিবিদ সাদিয়া রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আহাদ নাফিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে শিল্পকলার ইতিহাসে স্নাতক নওশীন নাওয়ার রাফা।
কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপে সারা দেশের মানুষের জীবনযাত্রা যখন স্থবির হয়ে পড়েছিলো, তখনও সাহসের প্রতীক হয়ে যে কয়টি সামাজিক প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছে, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য সংগঠন সঞ্জীবন। মহামারীকালে স্বীয় পরিধিভূক্ত এলাকাগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে প্রয়োগ, বিনামূল্যে হাত ধোয়ার সাবান বিতরণ, অস্থায়ী বেসিন স্থাপন, স্বল্প পরিসরে টেলিমেডিসিন সেবা চালু, স্ব-গৃহে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ছাড়াও লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারের মানুষদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটির ভলান্টিয়ারগণ। অতিমারীর প্রকোপের মাঝেই রমজান মাসে প্রথমবারের মতো যাকাতের অর্থ অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করে অসহায় পরিবারের স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির জন্য সেলাই মেশিন দান এবং এতিম-দুঃস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিও রয়েছে সঞ্জীবনের করোনাকালীন অর্জনের ঝুলিতে।
শিক্ষানুরাগী তরুণদের অলস সময়কে কাজে লাগাতে ছোটগল্প লিখন প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনলাইন কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কর্মসূচির অন্যতম।
সঞ্জীবনের বিগত বছরগুলোর পথ পরিক্রমায় উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে এবং বিনা বিনিময়ে রক্তদান, ব্লাড ক্যাম্প ও মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা; শেরপুর, জামালপুর, কুড়িগ্রাম এর বিভিন্ন এলাকায় হাজারো বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি; প্রতি বছর শত-শত দুঃস্থ অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ইফতার আয়োজন এবং ঈদে ঈদসামগ্রী বিতরণ; অসহায় পথশিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ; বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষরোপণের প্রতিযোগিতা; স্বল্প পরিসরে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান; বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন; শহর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা; দূর্নীতি দূরীকরণ, ডেঙ্গু ভীতি দূরীকরণ ও নিরাপদ সড়কের প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন গঠনমূলক বিষয়ের উপর বিভিন্ন শিক্ষামূলক সেমিনার আয়োজন; স্কিল ডেভেলপিং প্রোগ্রাম আয়োজন; নিয়মিত বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি পালন; ইতিহাস খ্যাত সমাজের কৃতী সন্তানদের স্মরণে নিয়মিত কর্মসূচি সহ প্রভৃতি।
বিগত ৪ বছরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ স্মরণে যে সংগঠনগুলো নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য প্রতিষ্ঠান সঞ্জীবন যুব সংস্থা। একইভাবে, বাংলাদেশে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর স্মরণে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে যাওয়া শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সঞ্জীবন।
বিগত বছরগুলোতে পরিচালনা করা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এখনও অবধি বেশ কিছু সামাজিক সম্মাননাও রয়েছে সঞ্জীবন যুব সংস্থার ঝুলিতে। এর মধ্যে রয়েছে, কলকাতাস্থ ‘নেতাজী রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানজনক ‘ইয়াং লীডার অব বেঙ্গল অ্যাওয়ার্ড’ (ইন্টারন্যাশনাল) ক্যাটাগরিতে ২০২০-২১ বর্ষসেরা তরুণ সংগঠক হিসেবে সঞ্জীবন যুব সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদ সভাপতি ফাহিম আহম্মেদ মন্ডলের নির্বাচিত হওয়া। এছাড়াও, ২০২১-২২ মেয়াদে জাতীয় যুব কাউন্সিলের সদস্য হোন সঞ্জীবনের পক্ষে ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল।
সঞ্জীবন প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট জানতে চাইলে এর প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল বলেন, “প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে রক্তদানের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থানরত প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং তাঁদেরকে জড়ো করাই আমাদের লক্ষ্য ছিলো। আমি নিজে সেকেন্ড টাইমার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখন। পরিচিতজনদের অনেকেই তখন ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়মিত রক্ত ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাতেন। বন্ধুমহলে পরিচিতি থাকায় তা ব্যবস্থাও করতে পারতাম সহজেই। ইতোপূর্বে শহরে যে সংস্থাগুলো স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে আসছিলো, তাঁদের অনেককে নিয়েই বিভিন্ন সময়ে আর্থিক কেলেঙ্কারি সহ নানাবিধ বিতর্ক তৈরী হয়। আমি নিজেও যার ভূক্তভোগী হয়েছি। তাই সার্বিকভাবে রক্তদানের এক নতুন মডেল তৈরী করতেই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সঞ্জীবনের শুরু। শুরু থেকেই স্বচ্ছতার প্রশ্নে সঞ্জীবনের আপোষহীন মানসিকতা ও বিনা বিনিময়ে রক্তদানের প্রচার অল্প সময়েই স্থানীয় তরুনদের মাঝে সাড়া ফেলে এবং জনপ্রিয়তা পায়।”
বর্তমানে সংগঠনের পরিচালনার ধরণ আগের চেয়ে অনেকটাই পাল্টেছে ও নীতিগত পার্থক্য এসেছে জানিয়ে ভবিষ্যত কর্মসূচি সম্পর্কে তরুণ এই সংগঠক বলেন, “রক্তদান কর্মসূচি দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে আমরা আরও বিভিন্ন পরিসরে আমাদের সংগঠনকে প্রসারিত করার চেষ্টা করেছি। অচিরেই এসডিজি দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কার্যক্রমের অংশ হয়েছে। সামাজিক সংগঠনও যে সমাজের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টিতে পরিণত হতে পারে, তা বাস্তবায়নই বর্তমানে আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যবধি যাদেরকে আমরা পাশে পেয়েছি, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। আমরা এক্ষেত্রে স্মরণ করতে চাই আমাদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের, যাদের অনেকেই বর্তমানে আমাদের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে নেই। তাঁদের আকণ্ঠ সমর্থন ব্যতিত সংগঠন হিসেবে আমরা যাত্রাই শুরু করতে পারতাম না। একইভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও মহানগর পর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ আমাদের সকল সদস্য ও ভলান্টিয়ারদের, যাদের কায়িক ও আর্থিক শ্রম ও দান ছাড়া সংগঠনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা হতো না। শ্রদ্ধার সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমাদের সকল অর্থদাতা ও রক্তদাতাদেরকেও। তাঁদের অংশগ্রহণ ব্যতীত আমাদের কার্যক্রম অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতো। এবং অবশ্যই আমি কৃতজ্ঞ আমার সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন হৃদয়ের প্রতি। তার আকণ্ঠ সমর্থন ও পরিশ্রম ছাড়া আমার সাংগঠনিক জীবন এতটা আসতো না।”
সাংবাদিকতা ও সংগঠনকে একসঙ্গে সামলে বিভিন্ন ফোরামে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সঞ্জীবন সভাপতির বক্তব্য, “একই সঙ্গে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সাংবাদিকতা করেছি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নির্বাচন, ইয়ুথ জার্নালিস্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি; নিজ উপজেলার প্রেস ইউনিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সঞ্জীবনের পক্ষ হতে নানান প্রোগ্রাম কর্মসূচি গ্রহণ, আয়োজন ও বাস্তবায়ন করেছি। পরিকল্পনাবিদদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নিয়েছি। সাংগঠনিকভাবে আমি যা কিছু শিখেছি, প্রায় সবই আমার সাংগঠনিক জীবনের গুরু, শিক্ষক, বড় ভাই, শিখরী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, লেখক ও কবি মেহেদী কাউসার ফরাজীর হাত ধরে। তাঁর মস্তিস্কপ্রসূত কর্মসূচিগুলোই পরবর্তীতে বিস্তৃতরূপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজকের সঞ্জীবন ও আমার সাংগঠনিক জীবন। দক্ষ নেতৃত্ব ও নেতা তৈরীতে এই মানুষটার গুণাবলীর যে আংশিক আমরা ধারণ করতে চেয়েছি বা পেয়েছি, তার বদৌলতেই আজ সঞ্জীবনে দক্ষ পরিসরে অরাজনৈতিক, তৃণমূল অঙ্গনের নেতৃত্ব তৈরী হয়েছে ও হচ্ছে। এক্ষেত্রে, কৃতজ্ঞতা জানাই আমার আরও একজন বড় ভাই জনাব ইউসুফ জামিলের প্রতি। কাউসার ভাইয়ের হাত ধরে যা শিখেছি, তা নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বাস্তবায়নের সার্বিক সুযোগ লাভ করেছি জামিল ভাইয়ের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায়।”
নিজ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও রয়েছে সঞ্জীবন যুব সংস্থার ঘনিষ্ঠ যোগ। সঞ্জীবনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাণীগঞ্জ পাঠাগার, যার পরিচালনার দায়িত্বে দ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নামক তরুণদের আরও একটি জনপ্রিয় সংগঠন। এছাড়াও, শিখরী ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গণপাঠাগার জঙ্গলবাড়ী বাতিঘর, ত্রিশাল এসোসিয়েশন, ফুলবাড়িয়া উন্নয়ন ফোরাম, জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি), ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ওয়াইপিএসডি), সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিজিডি)’র সঙ্গে রয়েছে সঞ্জীবনের নিবিড় সম্পর্ক। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বর্তমানে সঞ্জীবনের কার্যক্রম সম্পূর্ণই স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং যে কেউ চাইলেই নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সভ্য হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।
নওশীন নাওয়ার রাফা 
















