বর্তমান সময়ে বাড়িতে খাবার ডেলিভারি প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যস্ত জীবনধারায় মানুষের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে বহু সংস্থা বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়ে যায়। অনেকে নিজেই খাবারের দোকান থেকে কিনে নেন। তবে বিষয়টা যাই হোক না কেন, কোভিডের পর থেকে মানুষের মধ্যে হাইজিন বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।
অর্ডার করুক বা নিজে নিয়ে আসুক ভালো কন্টেইনারে করে খাবার দেওয়াটাই বেশি পছন্দের সকলের। কোথাও সাদা আবার কোথাও কালো রঙের প্লাস্টিকের কন্টেইনারে করে খাবার প্যাক করে দেওয়া হয়। এই কন্টেইনারগুলো হালকা, টেকসই ও সস্তা, যা ডেলিভারির জন্য বেশ সুবিধাজনক। অনেকে আবার বাড়িতে ধুয়ে এই সব কৌটা ব্যবহার করেন।
কিন্তু কালো প্লাস্টিকের কৌটা স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ভালো?
কালো প্লাস্টিকের পাত্র মূলত পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক থেকে তৈরি করা হয়। এই পাত্রগুলোকে কালো করতে কার্বন ব্ল্যাকের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া চলাকালে অনেক ধরনের প্লাস্টিক মিশ্রিত হয়, কখনো কখনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে তার মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন কম খরচে তৈরির জন্য অনেক সময় তৈরির সময় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
গরম খাবারের সংস্পর্শে এলে এই রাসায়নিকগুলো খাবারে প্রবেশ করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। এমনকি বাড়তে পারে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও।
আমস্টারডামের ভিজ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের একটি দল পরীক্ষার সময় কালো প্লাস্টিক থেকে তৈরি কিছু গৃহস্থালির পণ্যতে উচ্চ মাত্রার ক্যানসার সৃষ্টিকারী এবং হরমোনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো রাসায়নিকের খোঁজ পেয়েছেন। এই সব প্লাস্টিকের মধ্যে রয়েছে খাবার প্যাক করার কৌটা থেকে খেলনাও।
এই ক্ষতিকর রাসায়নিক বিসফেনল এমন এক উপাদান যা শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই ক্ষতিকর রাসায়নিক বিসফেনল এমন এক উপাদান যা শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ঝুঁকি এড়াতে রান্নাঘরে কাঠের বাসন ব্যবহার করতে পারেন। প্লাস্টিকের পাত্রের ব্যবহার যতটা পারা যায় কম করুন। ননস্টিক প্যান বা ওয়াক ব্যবহার করলেও সাবধান। এগুলো থেকে নির্গত রাসায়নিক আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। কালো ননস্টিক পাত্রের পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিলের বাসন বেছে নিন। গরম খাবার পরিবেশন করার জন্য কাচ ও সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করতে পারেন।
টিবিসি ডেস্ক ।। 


















