০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবি ময়মনসিংহ জেলা সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল

উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক জনাব আবুল মনসুর আহমদের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বিশেষ স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল ও ইফতার আয়োজন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জাবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গ্যালারিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম আবর্তনের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও দর্শন বিভাগের নির্বাচিত ভিপি, ৪৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাসেল আকন্দ।

দোয়া মাহফিলে কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও পাবলিক হেলথ ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম মোর্শেদ। এ সময় সংগঠনের সদস্য ফারিহা জান্নাতির সদ্য প্রয়াত মায়ের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায়ও বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাভার হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর আনজিল আহমেদ তুষার, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির অ্যালামনাই মাহফুজ আহমেদ (পরিসংখ্যান, ১৭ ব্যাচ), শাহ আলম সিদ্দিক মানিক (গণিত, ১৯ ব্যাচ), মোঃ ইউসুফ জামিল (ইউআরপি, ৪২ ব্যাচ); মাজাহারুল আমিন তমাল (জিপি, ৪২ ব্যাচ), রিফাত আকন্দ অন্তর (নৃবিজ্ঞান, ৪৩), রাজুয়ার হোসাইন (ইতিহাস, ৪৫); আদনান আসিফ হায়দার (জিওগ্রাফি, ৪৬) সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহফুজ (১৭ ব্যাচ) বলেন, “ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং একটি পরিবার। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য অব্যাহত থাকুক।”

সংশপ্তক পাবলিকেশন্স’র চেয়ারম্যান শাহ আলম সিদ্দিক মানিক (১৯) বলেন, “আমাদের ময়মনসিংহের শিক্ষার্থীরা বরাবরই ক্রিয়েটিভ। আমরা যারা অ্যালামনাই আছি, আমাদের কাছে যদি তোমরা যেকোনো সাহায্য বা পরামর্শের জন্য আসো, আমাদেরকে যদি তোমরা ডাকো, আমরা ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো ভালোভাবে তোমাদের পাশে দাঁড়াতে।”

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ জামিল বলেন, “কৃতী মানুষদের কাজ ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক। আমাদের সংগঠন সবসময় শিক্ষার্থীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকুক। পাশাপাশি ছাত্রকল্যাণমূলক যেকোনো কাজে অংশীজন হিসেবে, সেটা হতে পারে বৃত্তি প্রদান, হতে পারে চাকুরী ক্ষেত্রে সাহায্য, আমরা যেনো প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিকভাবে সর্বাগ্রে থাকতে পারি, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাজাহারুল আমিন তমাল (জিপি, ৪২ ব্যাচ) বলেন, “শুধু স্মরণসভা নয়, বরং আবুল মনসুর আহমদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণা করাও প্রয়োজন। তাঁর রচনাগুলো আজকের সমাজ বাস্তবতায় কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে তরুণদের ভাবতে হবে। জেলা সমিতির এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি দৃপ্তকণ্ঠে বলতে চাই, জেলা সমিতির সকল সদস্যের যেকোনো নৈতিক প্রয়োজনে ইনশাআল্লাহ আমাকে পাশে পাবে। আমরা চাই আমাদের জেলা সমিতি ক্যাম্পাসের অন্যদের জন্য রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হোক।”

রিফাত আকন্দ অন্তর (নৃবিজ্ঞান, ৪৩ ব্যাচ) বলেন, “জেলা সমিতি ঐচ্ছিক শ্রমের জায়গা। এটা আবেগের জায়গা। এই সংগঠনের কাজ শুধু কমিটি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং, সর্বোত সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং সমাজদর্শন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আয়োজন সেটিরই একটি উদাহরণ মাত্র। আমাদের বর্তমান কমিটি ভালো কাজ করছে। আমি বিগত দশ বছর যাবত এই সংগঠনের কার্যক্রম খুব কাছ থেকে দেখেছি। ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতেও আমাদের ছোটভাইবোনদের এমন আয়োজনে সর্বোতভাবে পাশে থাকবো।”

রাজুয়ার হোসাইন (৪৫ ব্যাচ) বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই, কিন্তু তা প্রয়োগ করতে ভুলে যাই। আবুল মনসুর আহমদের চিন্তাগুলোকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তিনি আমাদের ময়মনসিংহের মানুষ ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যেনো আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহবাসীকে গর্বিত করতে পারি, সেটার চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। সমিতির এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সামনের দিনগুলোতে আরও সুন্দর উদ্যোগ আশা করি।”

আদনান আসিফ হায়দার (জিওগ্রাফি, ৪৬ ব্যাচ) বলেন, “এই আয়োজন আমাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে এই মনীষীদের চিন্তাগুলো কাজে লাগানো যায়, সেটি ভাবতে হবে। পাশাপাশি বলতে চাই, আমাদের সমিতিতে ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতে যেনো পূর্ণ সাম্যতা নিশ্চায়ন করতে পারি, সে চেষ্টা করে যেতে হবে। সমিতিতে যেনো সবাই নিরাপদ বোধ করেন, সেটা আমাদের ভাইবোনদেরই নিশ্চায়ন করতে হবে।”

অতিথিদের বক্তব্যের মাঝেই অনুষ্ঠান সঞ্চালক ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল আকন্দ বলেন, “বিগত সময়ে ক্যাম্পাসের সকল জেলা সমিতিই অল্পবিস্তর হলেও রাজনীতিকরণের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। আমাদের ময়মনসিংহ জেলা সমিতিও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা কথা দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ রাজনৈতিকভাবে জেলা সমিতিকে আর কখনোই ব্যবহার করতে দেয়া হবেনা। আমাদের জেলার ভান্ডারে অসংখ্য কীর্তিমান মানুষ রয়েছেন। আবুল মনসুর আহমদ তাঁদেরই একজন। তাঁদের জীবনদর্শন থেকে দীক্ষা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো সামনের দিকে, ইনশাআল্লাহ।”

এই অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য এবং সংগঠনের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মারজান মুগ্ধ বলেন, “আমাদের সংগঠনকে সম্পূর্ণ বন্ধুবৎসল এবং নিরাপদ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে, আমাদের জেলার যে ছোটবোনেরা এখানে উপস্থিত রয়েছেন, তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে পাশে পাবেন ইনশাআল্লাহ। আবুল মনসুর আহমদ নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভীষণভাবে কথা বলে গিয়েছেন। আমরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। সংগঠনের কার্যক্রমে ইনশাআল্লাহ তাঁর আদর্শবাদী ভাবধারার মূল্যায়ন আমরা করবো। জেলা সমিতিও যে কার্যকর উপায়ে সদস্যদের উপকারে আসতে পারে, সেটা প্রতিষ্ঠাকল্পেই আমাদের কার্যক্রম ও চেষ্টা।”

সভাপতির বক্তব্যে ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল বলেন, “আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, যিনি মুসলিম বাংলার কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। তাঁর সাহিত্য, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। ময়মনসিংহের এই কৃতী সন্তানের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা ময়মনসিংহ জেলার বর্তমান ও প্রাক্তন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:

জাবি ময়মনসিংহ জেলা সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল

প্রকাশ: ০৮:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক জনাব আবুল মনসুর আহমদের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বিশেষ স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল ও ইফতার আয়োজন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জাবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গ্যালারিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম আবর্তনের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও দর্শন বিভাগের নির্বাচিত ভিপি, ৪৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাসেল আকন্দ।

দোয়া মাহফিলে কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও পাবলিক হেলথ ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম মোর্শেদ। এ সময় সংগঠনের সদস্য ফারিহা জান্নাতির সদ্য প্রয়াত মায়ের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায়ও বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাভার হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর আনজিল আহমেদ তুষার, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির অ্যালামনাই মাহফুজ আহমেদ (পরিসংখ্যান, ১৭ ব্যাচ), শাহ আলম সিদ্দিক মানিক (গণিত, ১৯ ব্যাচ), মোঃ ইউসুফ জামিল (ইউআরপি, ৪২ ব্যাচ); মাজাহারুল আমিন তমাল (জিপি, ৪২ ব্যাচ), রিফাত আকন্দ অন্তর (নৃবিজ্ঞান, ৪৩), রাজুয়ার হোসাইন (ইতিহাস, ৪৫); আদনান আসিফ হায়দার (জিওগ্রাফি, ৪৬) সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহফুজ (১৭ ব্যাচ) বলেন, “ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং একটি পরিবার। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য অব্যাহত থাকুক।”

সংশপ্তক পাবলিকেশন্স’র চেয়ারম্যান শাহ আলম সিদ্দিক মানিক (১৯) বলেন, “আমাদের ময়মনসিংহের শিক্ষার্থীরা বরাবরই ক্রিয়েটিভ। আমরা যারা অ্যালামনাই আছি, আমাদের কাছে যদি তোমরা যেকোনো সাহায্য বা পরামর্শের জন্য আসো, আমাদেরকে যদি তোমরা ডাকো, আমরা ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো ভালোভাবে তোমাদের পাশে দাঁড়াতে।”

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ জামিল বলেন, “কৃতী মানুষদের কাজ ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক। আমাদের সংগঠন সবসময় শিক্ষার্থীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকুক। পাশাপাশি ছাত্রকল্যাণমূলক যেকোনো কাজে অংশীজন হিসেবে, সেটা হতে পারে বৃত্তি প্রদান, হতে পারে চাকুরী ক্ষেত্রে সাহায্য, আমরা যেনো প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিকভাবে সর্বাগ্রে থাকতে পারি, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাজাহারুল আমিন তমাল (জিপি, ৪২ ব্যাচ) বলেন, “শুধু স্মরণসভা নয়, বরং আবুল মনসুর আহমদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণা করাও প্রয়োজন। তাঁর রচনাগুলো আজকের সমাজ বাস্তবতায় কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে তরুণদের ভাবতে হবে। জেলা সমিতির এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি দৃপ্তকণ্ঠে বলতে চাই, জেলা সমিতির সকল সদস্যের যেকোনো নৈতিক প্রয়োজনে ইনশাআল্লাহ আমাকে পাশে পাবে। আমরা চাই আমাদের জেলা সমিতি ক্যাম্পাসের অন্যদের জন্য রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হোক।”

রিফাত আকন্দ অন্তর (নৃবিজ্ঞান, ৪৩ ব্যাচ) বলেন, “জেলা সমিতি ঐচ্ছিক শ্রমের জায়গা। এটা আবেগের জায়গা। এই সংগঠনের কাজ শুধু কমিটি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং, সর্বোত সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং সমাজদর্শন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আয়োজন সেটিরই একটি উদাহরণ মাত্র। আমাদের বর্তমান কমিটি ভালো কাজ করছে। আমি বিগত দশ বছর যাবত এই সংগঠনের কার্যক্রম খুব কাছ থেকে দেখেছি। ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতেও আমাদের ছোটভাইবোনদের এমন আয়োজনে সর্বোতভাবে পাশে থাকবো।”

রাজুয়ার হোসাইন (৪৫ ব্যাচ) বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই, কিন্তু তা প্রয়োগ করতে ভুলে যাই। আবুল মনসুর আহমদের চিন্তাগুলোকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তিনি আমাদের ময়মনসিংহের মানুষ ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যেনো আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহবাসীকে গর্বিত করতে পারি, সেটার চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। সমিতির এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সামনের দিনগুলোতে আরও সুন্দর উদ্যোগ আশা করি।”

আদনান আসিফ হায়দার (জিওগ্রাফি, ৪৬ ব্যাচ) বলেন, “এই আয়োজন আমাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে এই মনীষীদের চিন্তাগুলো কাজে লাগানো যায়, সেটি ভাবতে হবে। পাশাপাশি বলতে চাই, আমাদের সমিতিতে ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতে যেনো পূর্ণ সাম্যতা নিশ্চায়ন করতে পারি, সে চেষ্টা করে যেতে হবে। সমিতিতে যেনো সবাই নিরাপদ বোধ করেন, সেটা আমাদের ভাইবোনদেরই নিশ্চায়ন করতে হবে।”

অতিথিদের বক্তব্যের মাঝেই অনুষ্ঠান সঞ্চালক ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল আকন্দ বলেন, “বিগত সময়ে ক্যাম্পাসের সকল জেলা সমিতিই অল্পবিস্তর হলেও রাজনীতিকরণের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। আমাদের ময়মনসিংহ জেলা সমিতিও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা কথা দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ রাজনৈতিকভাবে জেলা সমিতিকে আর কখনোই ব্যবহার করতে দেয়া হবেনা। আমাদের জেলার ভান্ডারে অসংখ্য কীর্তিমান মানুষ রয়েছেন। আবুল মনসুর আহমদ তাঁদেরই একজন। তাঁদের জীবনদর্শন থেকে দীক্ষা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো সামনের দিকে, ইনশাআল্লাহ।”

এই অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য এবং সংগঠনের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মারজান মুগ্ধ বলেন, “আমাদের সংগঠনকে সম্পূর্ণ বন্ধুবৎসল এবং নিরাপদ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে, আমাদের জেলার যে ছোটবোনেরা এখানে উপস্থিত রয়েছেন, তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে পাশে পাবেন ইনশাআল্লাহ। আবুল মনসুর আহমদ নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভীষণভাবে কথা বলে গিয়েছেন। আমরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। সংগঠনের কার্যক্রমে ইনশাআল্লাহ তাঁর আদর্শবাদী ভাবধারার মূল্যায়ন আমরা করবো। জেলা সমিতিও যে কার্যকর উপায়ে সদস্যদের উপকারে আসতে পারে, সেটা প্রতিষ্ঠাকল্পেই আমাদের কার্যক্রম ও চেষ্টা।”

সভাপতির বক্তব্যে ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল বলেন, “আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, যিনি মুসলিম বাংলার কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। তাঁর সাহিত্য, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। ময়মনসিংহের এই কৃতী সন্তানের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা ময়মনসিংহ জেলার বর্তমান ও প্রাক্তন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।