জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে (৫১ ব্যাচ) রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ বিবৃতি ও আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৩ মে) সংগঠনের সভাপতি ফাহিম আহমেদ মন্ডল (৪৭ ব্যাচ) ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল আকন্দ (৪৮ ব্যাচ) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মঙ্গলবার রাতে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন নির্জন এলাকায় একজন নারী শিক্ষার্থীর ওপর যে বর্বরোচিত শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়েছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি ও টহল ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থাকেই তুলে ধরে।
ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ এবং ধারাবাহিক অনিরাপত্তার দায়ভার প্রশাসন এড়াতে পারে না উল্লেখ করে সংগঠনটি প্রশাসনের কাছে নিম্নোক্ত দাবিগুলো পেশ করে:
২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্তকরণ: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীকে শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিরাপত্তা ব্যর্থতার জবাবদিহিতা: সংরক্ষিত এলাকায় বহিরাগত প্রবেশের সুযোগ তৈরির জন্য প্রক্টোরিয়াল বডিকে কৈফিয়ত দিতে হবে এবং দায়িত্বহীন নিরাপত্তা কর্মীদের অবহেলার বিচার করতে হবে।
অন্ধকার জোন নির্মূল: ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে, বিশেষ করে জঙ্গল ও ঝোপঝাড় সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ: বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ভয়হীন চলাচলের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপদ ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের অধিকার, প্রশাসনের করুণা নয়। যদি অনতিবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি।
আব্দুল্লাহ আল নোমান 















